ইসরোয় বেসরকারিকরণের ছোঁয়া, ভবিষ্যৎ জানতে ডিরেক্টরকে চিঠি কর্মীদের
সংবাদদাতা, বেঙ্গালুরু: মহাকাশ গবেষণার দরজা বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্যও খুলে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। বেসরকারি উদ্যোগে মহাকাশ যান পাঠানোও শুরু হয়ে গেছে। এরপর কোনদিকে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার ভবিষ্যৎ? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে ইসরোর ডিরেক্টর ভি নায়ারণনকে চিঠি দিলেন প্রায় ৫ হাজার বিজ্ঞানী ও কর্মী। তাঁদের দাবি, সরকার ইসরো নিয়ে ঠিক কী পরিকল্পনা করছে, সেটা স্পষ্ট করতে হবে।
গত বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশের মহাকাশ গবেষণা সারা বিশ্বের সমীহ আদায় করে নিচ্ছে। ইসরোর হাত ধরে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশের তকমাও পেয়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রযান, মঙ্গলযান অভিযানের সাফল্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মর্যাদা বাড়িয়েছে। সামনের গগনযান মিশন নিয়ে ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তামাম দুনিয়া। এর মধ্যেই ইসরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সংস্থার কর্মীরা। এই আশঙ্কাকে বেশ কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে সম্প্রতি শতাধিক বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়রের ইসরো থেকে পদত্যাগ করা। জানা গিয়েছিল, তাদের ইসরো ছেড়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল বেসরকারিকরণ। একাধিক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। সরকারি নীতিতে জানানো হয়েছে যে, রকেটের নকশা করা, রকেট তৈরি করা, স্পেস সিস্টেমের অপারেশন সবটাই করবে বেসরকারি সংস্থাগুলি। অন্যদিকে ইসরো মূলত মন দেবে মহাকাশ সম্পর্কিত গবেষণায় এবং উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কারে। এই বিষয়টিই উদ্বেগ বাড়িয়েছে ইসরোর কর্মীদের। VSSC, SDSC, URSC, LPSC, SAC, NRSC এবং IPRC–র মতো কেন্দ্রের কর্মীরা একসঙ্গে চিঠি দিয়েছেন ইসরোর প্রধানকে। এই মুহূর্তে ইসরোর মোট কর্মী সংখ্যা ১৮ হাজার। জানা গেছে, এর মধ্যে ৫ হাজার জন চিঠিতে সই করেছেন। বলা হয়েছে, বেসরকারিকরণে তাদের আপত্তি নেই। চুক্তিগ্রাহ্যভাবে যদি বেসরকারিকরণ হয়, তাতেও সমস্যা নেই। কিন্তু আগামীতে ইসরো নিজেদের রকেট যদি নিজেরা না তৈরি করে তাহলে ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য কর্মীদের কী হবে? কারণ, কর্মীরা মনে করছেন, আগামীতে ইসরো আর রকেট বানাবে না।
উল্লখ্য, কিছুদিন আগেই SSLV রকেট তৈরির প্রযুক্তি HAL–কে দিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। PSLV তৈরির প্রযুক্তিও স্থানান্তর নিয়ে কথা চলছে।
