Mamata Banerjee and Biman Bose: মমতার সৌজন্যবার্তা নিয়ে আলিমুদ্দিনে কুণাল, আড়ালে কী অন্য সমীকরণ?
কলকাতা: ‘শ্রদ্ধেয় বিমানদা, সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন।’ অসুস্থ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে এই বার্তা পাঠালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির এইমসে হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানোর পর সম্প্রতি কলকাতায় ফিরেছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা। আপাতত চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। তৃনমূল সুপ্রিমোর পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তার ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

ছবিতে সাদা কাগজে প্রিন্ট করা মমতার বার্তা, নীচে তাঁর স্বাক্ষর—‘মমতা’। কুণাল জানান, তৃণমূল নেত্রীর শুভেচ্ছাবার্তার বাহক হয়ে তিনি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে গিয়েছিলেন। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং দলের নেতা সুখেন্দু পানিগ্রাহীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় হয়। শুভেচ্ছাবার্তার জন্য সিপিএম নেতৃত্ব মমতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন বেলেঘাটার বিধায়ক। বিমান বসু ভালো আছেন, তবে সংক্রমণ এড়াতে চিকিৎসকেরা কয়েক দিন আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঘটনাটি সৌজন্যের হলেও পালাবদলের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরেছে, একদা সহযোগী অনেকেই দ্রুত শিবির বদলেছেন। একদিকে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ মমতার হাত ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়ে কেন্দ্রে এনডিএ-র শরিক হয়েছেন। অন্যদিকে, একঝাঁক বিধায়ক দল ছেড়ে দাবি করছেন তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। এই পরিস্থিতিতে বেশ কোনঠাসা তৃণমুলের কালীঘাট শিবির।
অন্যদিকে, যে বামেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল, সেই সিপিএমও এখন বিরোধী পরিসরে। সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে সবাইকে এক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। সিপিএম নিয়ে যে তাঁর মনে কোনও ছুতমার্গ নেই তাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তৃণমুল নেত্রী। তৃণমূলকে ঘিরে কয়েকটি ইস্যুতে সিপিএমের সুরেও তুলনায় নরম ভাব দেখা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় মমতার বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর-এর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
তাহলে কি ক্ষমতা হারানোর পর পুরনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে নতুন করে দূরত্ব কমাতে চাইছেন মমতা? বিমান বসুর জন্য পাঠানো এই বার্তা নিছক মানবিক সৌজন্য, নাকি তার আড়ালে আগামী দিনের কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত—প্রশ্ন থাকছেই। কারণ রাজনীতির সেই বহুচর্চিত কথাটা আজও প্রাসঙ্গিক—চিরশত্রু বলে কিছু নেই, চিরমিত্রও নেই।
