বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

যাদবপুরে দু’পক্ষের জমায়েত, উত্তেজনা

03 September, 2026 7:24 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ যাদবপুরে ফের মুখোমুখি এবিভিপি–এসএফআই। বৃহস্পতিবার ফের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। ক্যাম্পাসের ভেতরে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের ‘‌বন্দে মাতরম’‌ যাত্রার পালটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে রাজা সুবোধ মল্লিক রোডে মিছিল করল এসএফআই। দুই কর্মসূচিকে ঘিরে দিনভর তৈরি হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ‘বন্দে মাতরম যাত্রা’র ঘোষণা আগেই করেছিল এবিভিপি। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুরে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মিছিল করেন এবিভিপি–র সদস্যরা। সংগঠনের বক্তব্য, যাদবপুরে কোনও ধরনের ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না এবং ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। এবিভিপি শুধু পড়ুয়াদের নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদেরও মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। এই কর্মসূচির পরই ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয়তাবাদী সম্মেলন’–এর আয়োজন করা হয়। একই দিনে সেখানে অন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়েও ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে আপত্তি ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, এবিভিপির কর্মসূচির পালটা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে রাজা সুবোধ মল্লিক রোডে মিছিল করে এসএফআই। এই মিছিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশের উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পালটা বক্তব্য দেয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসএফআই এর মিছিল এসে পৌঁছাতেই তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন পুলিশ কর্মীরা। তাদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি বাঁধে এসএফআই কর্মীদের সঙ্গে। শেষে রাস্তায় জমায়েত করে সভা শেষ করে পড়ুয়ারা। এই সভামঞ্চ থেকেই রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার ছাত্র নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটের দাবি তুলেছে। উল্লেখ্য,গত আগস্টে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে অশান্তি শুরু হয় একটি জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে। সেই বিবাদ পরে ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ, পালটা মিছিল এবং পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনায় গড়ায়। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা এবং বহিরাগত প্রবেশ করানোর অভিযোগ তুলেছিল। গত ২৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ কর্মসূচি ঘিরেও জাতীয়তাবাদ বনাম বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং যাদবপুরে ‘হুমকির সংস্কৃতি’ বন্ধ করে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। ফলে আজকের দুই মিছিলকে শুধুমাত্র পৃথক ছাত্র কর্মসূচি হিসেবে না দেখে যাদবপুরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘাতের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। ক্যাম্পাসের ভেতরে এবিভিপি–র ‘বন্দে মাতরম’ যাত্রা এবং বাইরে এসএফআই–এর পালটা মিছিল ফের স্পষ্ট করে দিল, যাদবপুরে ছাত্র রাজনীতিকে ঘিরে টানাপোড়েন এখনও কাটেনি।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik