রাজ্যে বাড়ছে সরকারি বাসের সংখ্যা
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের সরকারি বাস পরিষেবাকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে বড়সড় পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ দপ্তরোর। যাত্রীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি বাসে পরিষেবার মান আরও উন্নত করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের রাস্তায় আরও বেশ কিছু নতুন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সরকারি বাস নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী মার্চের মধ্যে প্রায় ১ হাজার নতুন বাস রাস্তায় নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের চাপ এবং পরিষেবার প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করে নতুন বাস চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলি, গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর এবং ব্যস্ত আন্তঃজেলা রুটগুলিতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। উৎসবের মরশুমে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কথা মাথায় রেখেই দুর্গাপুজোর আগে নতুন বাস নামানোর উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন বাসের মধ্যে এসি বাসও থাকবে। ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘপথের যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে, অন্যদিকে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে বহু গুরুত্বপূর্ণ রুটে পর্যাপ্ত সরকারি বাস না থাকায় যাত্রীদের বেসরকারি পরিবহণের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন বাস যুক্ত হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু বাসের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, সরকারি বাস পরিষেবায় নজরদারি ও শৃঙ্খলা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। পরিবহণ দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি বাসের কন্ডাক্টরদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হবে। যাত্রীদের সঙ্গে কন্ডাক্টরদের আচরণ, টিকিট সংক্রান্ত বিষয় এবং বাসের ভেতরে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতেই এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা। বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে যাত্রী ও পরিবহণকর্মী—উভয় ক্ষেত্রেই নজরদারি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। টিকিট নিয়ে কোনও অভিযোগ, যাত্রী–কন্ডাক্টরের মধ্যে বচসা কিংবা অন্য কোনও বিতর্ক তৈরি হলে ঘটনার তথ্য যাচাই করতেও এই ক্যামেরার ফুটেজ কাজে লাগতে পারে। একই সঙ্গে কর্মীদেরও দায়িত্বশীলভাবে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে বলে পরিবহণ দফতরের আশা। আগামী মার্চের মধ্যে প্রায় ১,০০০টি নতুন বাস নামানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ধাপে ধাপে বাস পরিষেবায় নতুন যান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুধু নতুন বাস রাস্তায় নামালেই হবে না, সেগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সময়মতো পরিষেবা এবং পর্যাপ্ত চালক–কন্ডাক্টর নিয়োগের বিষয়েও নজর দিতে হবে বলে মনে করছেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা। বাস সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা বা অভিযোগ জানাতে রাজ্যে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন পরিবহণ সংস্থার জন্য দেওয়া হয়েছে যোগাযোগের নম্বর। সেগুলি হল —
এনবিএসটিসি (উত্তরবঙ্গ): ৯০৪৬২২৯০২৫
এসবিএসটিসি (দক্ষিণবঙ্গ): ৭৬৯৯৯৯৩৯৩০
সিটিসি /ইবিএসটিসি: ৮৬৯৭৭৩৩৩৯২ / ৮৬৯৭৭৩৩৩৯১
পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস এবং বেসরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, বিহার ও সিকিমের মতো রাজ্যের সঙ্গে বাস চলাচল নিয়ে চুক্তি করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ থেকে ওই রাজ্যগুলিতে বাস চলবে এবং বাসগুলিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ লেখা থাকবে। বেকার যুবকদের জন্য কম খরচে বাস পারমিট এবং অটো, টোটো চালুর সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পরিবহণ ক্ষেত্রে প্রায় ৪.৩৫ কোটি টাকার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ওলা,উবেরের মতো অ্যাপ ক্যাবগুলিকে অবিলম্বে কমার্শিয়াল নম্বর প্লেট করতে হবে। এর জন্য এক মাসের সময়সীমা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কলকাতায় ট্রাম পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বেলারুশ ও মেলবোর্ন থেকে বিভিন্ন সংস্থা রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী। সব মিলিয়ে, নতুন বাস, এসি পরিষেবা এবং বডি ক্যামেরার মতো প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি—এই তিনটি উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের সরকারি বাস পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করে তোলাই পরিবহণ দফতরের লক্ষ্য। দুর্গাপুজোর আগে নতুন বাস রাস্তায় নামলে উৎসবের মরশুমে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতেও তার সুফল মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
