বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

‘দায়রা’ দেখে শিউরে উঠছেন কারিনা! দুই ছেলের মা হিসেবে কেন আতঙ্কে বলিউড ‘বেবো’?

31 August, 2026 3:51 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

মুম্বই : রূপোলি পর্দার আলো-ঝলমলে জগতের বাইরেও এক বাস্তব জগত রয়েছে, যেখানে সমাজের কঠিন ও নির্মম সত্যিগুলো মাঝে মাঝেই আয়নার মতো সামনে এসে দাঁড়ায়। আর সেই রিল ও রিয়েল লাইফের সংযোগস্থলেই এবার থমকে দাঁড়িয়েছেন বলিউড সম্রাজ্ঞী কারিনা কাপুর খান। মেঘনা গুলজারের আগামী থ্রিলার ছবি ‘দায়রা’ (Daayra)-র ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে এসে নিজের মাতৃত্ব এবং সমাজের গভীর ব্যাধি নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন বেবো। স্পষ্ট জানালেন, এই ধরনের বাস্তবধর্মী ও অস্বস্তিকর বিষয়ভিত্তিক ছবি একজন মা হিসেবে তাঁকে ভেতর থেকে আতঙ্কিত করে তোলে!

সইফ-কারিনার সংসারের দুই প্রাণভোমরা—তৈমুর ও জেহ। দুই ছেলের লালন-পালন নিয়ে বরাবরই সচেতন এই অভিনেত্রী। ট্রেলার লঞ্চে ‘দায়রা’ ছবির প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন কারিনা। তিনি বলেন, “আমি দুটো ছেলের মা, তাই এই ধরনের গল্প আমাকে ভীষণ ভয় পাইয়ে দেয়। একজন মা হিসেবে আমি সবসময় ওদের সুরক্ষিত রাখতে চাই এবং সেরাটা দিতে চাই। তবে শুধু সুরক্ষিত রাখাই তো শেষ কথা নয়, ওদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। তাই আমার একটাই প্রার্থনা, আমাদের ছেলেরা যেন আরও একটু মানবিক ও দয়ালু হয়ে ওঠে। পুরুষদের মনটা আরেকটু কোমল হওয়া খুব দরকার।”

আমাদের সমাজে প্রচলিত এক দীর্ঘদিনের অন্ধধারণা রয়েছে—‘ছেলেদের কাঁদতে নেই’ কিংবা ‘ছেলেরা কাঁদে না’। এই মানসিকতাকে তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন কারিনা। ছেলেদের আবেগ চেপে না রেখে তা প্রকাশ করতে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে তিনি যোগ করেন, “মেয়েরাই সবসময় সংবেদনশীল বা স্পর্শকাতর হবে—এই ভাবনাটা একদম ভুল। অনেক ছেলে বা পুরুষ কিন্তু মা কিংবা সঙ্গিনীর সামনে নিজেদের চোখের জল লুকায় না। আমি আমার ছেলেদেরও একই কথা বলি। ওদের বলি—যদি কাঁদতে ইচ্ছে করে, তবে যেন মন খুলে কেঁদে ফেলে। সেই আবেগটাকে যেন ওরা অনুভবে চেপে না রাখে।”

ছবিতে নিজের একটি বিশেষ পছন্দের কিন্তু অত্যন্ত অস্বস্তিকর দৃশ্যের কথা স্মরণ করে কারিনা বলেন, “এই সিনেমার কিছু দৃশ্য অভিনয়ের সময় এমনিতেই গলা বুজে আসত। ছবিতে আমার করা একটি দৃশ্য আছে, যা মেঘনা এত সুন্দর ও তীক্ষ্ণভাবে লিখেছেন যে শুটিংয়ের পর আমি মানসিকভাবে কেঁপে উঠেছিলাম। সমাজে প্রচলিত সেই আবহমান বাণী—‘সব ভুল সবসময় একটা মেয়েরই হয়’—সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করেছে দৃশ্যটি। অভিনয় করাটা কঠিন চ্যালেঞ্জিং হলেও এটিই আমার সবচেয়ে পছন্দের দৃশ্য।”

মেঘনা গুলজারের পরিচালনায় তৈরি এই ‘দায়রা’ একটি তদন্তমূলক ড্রামা (Investigative Drama)। ছবিতে এক জটিল ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে দেখা যাবে দুই মুখ্য চরিত্র—রমন (পৃথ্বীরাজ সুকুমারন) ও অজুনিকে (কারিনা কাপুর খান)। ইনসাফ বা বিচারের আসল রূপ কী এবং কীভাবে তা পৌঁছে দেওয়া হয়, সেই বড় প্রশ্নকেই পর্দায় তুলে ধরেছেন মেঘনা। ‘তলওয়ার’ এবং ‘রাজি’-র মতো কালজয়ী ছবির পর জঙ্গলি পিকচার্সের সাথে এটি মেঘনার ফের এক নতুন কোলাবোরেশন।

জঙ্গলি পিকচার্স ও পেন স্টুডিওসের প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিতে কারিনা কাপুর ও দক্ষিণী তারকা পৃথ্বীরাজ সুকুমারনকে প্রথমবার একসঙ্গে পর্দায় দেখতে পাবেন দর্শকেরা। চিত্রনাট্য লিখেছেন মেঘনা গুলজার, সীমা আগরওয়াল ও যশ কেসওয়ানি। ক্যামেরার দায়িত্বে রয়েছেন সৌরভ গোস্বামী এবং সম্পাদনায় চারু শ্রী রায়। বিনোদনের টানটান থ্রিলারের সাথে সমাজের এক গভীর বার্তার এই মেলবন্ধন যে হিন্দি সিনেমার পর্দায় নতুন ঝড় তুলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য!

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee