বক্সায় ফিরল বাঘিনি
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গান্ধী জয়ন্তীর দিন আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরল বাঘিনি। শুক্রবার তিন বছর বয়সী একটি তরুণী বাঘিনিকে বক্সার জঙ্গলের পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। ব্যাঘ্র পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচির প্রধান ধাপে বাঘিনিটিকে সরাসরি জঙ্গলে ছাড়ার আগে প্রায় ২.২ হেক্টরের একটি বিশেষ প্রাকৃতিক ঘেরাটোপ বা এনক্লোজারে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষে চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত মেলার পর বাঘিনিটিকে মূল বনভূমিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও। শুভেন্দু অধিকারী রাজাভাতখাওয়া গেট দিয়ে বক্সার জঙ্গলে প্রবেশ করেন এবং প্রায় একঘণ্টা বনভূমির ভেতরের পরিস্থিতি ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। এরপর তিনি আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং ব্যাঘ্র পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচি সম্পর্কিত সচেতনতামূলক স্টলগুলি ঘুরে দেখেন।
বন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, একসময় বক্সা ছিল বাঘেদের অন্যতম পছন্দের বাসস্থান। কিন্তু পরে পরিবেশগত পরিবর্তন ও নানা কারণে সেখানে বাঘের সংখ্যা শূন্যে গিয়ে ঠেকেছিল। পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য বন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই পরিকল্পনা রূপায়িত হয়। বাঘিনিটির গায়ে রেডিও কলার লাগানো হয়েছে, যাতে সর্বক্ষণ তার গতিবিধি এবং শিকারের অভ্যাসের ওপর নজর রাখা যায়।
আগামী দিনে বক্সায় বাঘের বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও বেশ কয়েকটি বাঘ ও বাঘিনি নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। বনবিজ্ঞানীদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু বাঘের অস্তিত্ব রক্ষাই করবে না, বরং বক্সা বনাঞ্চলের ইকোসিস্টেম এবং জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে এক যুগান্তকারী ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ পর্যটনেও এটি নতুন এক দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীরা।
