বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

বইমেলা আর কারও সম্পত্তি নয়, চলবে না স্বজনপোষণ

26 August, 2026 7:57 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

আশিস গিরি
ঢেলে সাজানো হচ্ছে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাকে।

কয়েক দশক ধরে বইমেলাকে ঘিরে যে একক সংস্থা বা ব্যক্তির চূড়ান্ত আধিপত্য চলছিল, এবার তার ইতি। বইমেলাকে পক্ষপাত মুক্ত করে পাঠক–লেখক–প্রকাশকের নিজস্ব জায়গায় পরিণত করার এই কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে করা যায়, তার জন্যই রাজ্য সরকার উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি ছাড়াও এই কমিটিতে রয়েছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার প্রতিনিধি, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট ও জনশিক্ষা প্রসার দপ্তরের প্রতিনিধিরা। অতীতে বইমেলাকে কেন্দ্র করে ভুরি ভুরি অভিযোগ শোনা গেছে। সেখানে স্বজনপোষণ থেকে শুরু করে অবৈধভাবে স্টল বিলির মতো অভিযোগও উঠেছে।

এবার কলকাতা বইমেলাকে সে সব থেকে বের করে আনা হবে। একক সংগঠনের হাতে পড়ে এতদিন কলকাতা বইমেলা যেন তাদের নিজস্ব সম্পত্তি হয়ে উঠেছিল। কে স্টল পাবে, কতবড় স্টল পাবে, কাকে স্টল দেওয়া হবে না এ সবই চলত মর্জি মাফিক। কোনও নির্দিষ্ট নিয়মের বালাই ছিল না। এবার আর তার উপায় নেই। আগামী সেপ্টেম্বরে বইমেলার স্টলের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। আবেদন জমা পড়ার পর হবে লটারি। প্রত্যেকটা স্টলই বিলি করা হবে লটারির মাধ্যমে। এবার থেকে বইমেলায় প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার থাকবে। মেলায় ব্যবসায়িক মনোভাব প্রাধান্য পাবে না। সেই জায়গায় প্রাধান্য পাবে বই, বই নিয়ে আলোচনা, পাঠক–প্রকাশক সম্পর্ক।

আমরা চাই বইমেলা শুধু বইয়েরই মেলা হোক। অতীতে বইমেলায় বইয়ের থেকে বেশি চোখে পড়ত গয়নার দোকান, জুতোর দোকান, ছাতার দোকান, হাতের কাজের দোকান আর কয়েকশো খাবারের দোকান। মনে হতো মানুষ যেন শপিং করতে আর খাবার খেতেই বইমেলায় যাচ্ছেন!‌ এবার হবে শুধু বইয়ের মেলা। ফুড কোর্ট থাকবে। তবে তা অত্যন্ত ছোট জায়গার মধ্যে।

এবারের থিম কান্ট্রি নেপাল। মেলায় যাওয়া প্রত্যেকটি মানুষ নেপালের সাহিত্য, সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও থাকবে রাজশেখর বসুর নামাঙ্কিত প্যাভেলিয়ন। বন্দে মাতরম্‌ –এর ১৫০ বছর উপলক্ষ্যে থাকবে একাধিক প্রদর্শনী, আলোচনা প্রভৃতি। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যেহেতু যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করছে, তাই মেলাকে সামনে রেখে বেনিয়ম, আখের গোছানো বা অনৈতিক কোনও কাজের সম্ভাবনা একেবারেই থাকবে না। এবারও একই রকমভাবে বিনামূল্যে ঢোকা যাবে মেলা প্রাঙ্গণে।

কলকাতা বইমেলাকে কোনও একক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে প্রকাশক, লেখক ও বই বিক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়াই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। শুধু আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাই নয়, পরবর্তীতে জেলা বইমেলার ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম বহাল থাকবে। সেই সব মেলায় যাতে কোনও অনিয়ম না হয় সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখবে এই উপদেষ্টামণ্ডলী।

লেখক:‌ পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রের ডিরেক্টর ও বইমেলা উপদেষ্টা কমিটির সদস্য

 

 

 

‌‌

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik