বোলিং বিপর্যয়ে হাতছাড়া নিয়ন্ত্রণ, ফলো-অন করিয়েও বেকায়দায় ভারত
কলম্বো: হাতে ২১৩ রানের বিশাল লিড। সাধারণ যেকোনো অধিনায়ক এই অবস্থায় প্রতিপক্ষকে ফের ব্যাটিংয়ে পাঠাতে দ্বিধা করতেন না। কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিনের সকালে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস ২৯০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ভারত অধিনায়ক শুভমন গিলও সেই চেনা পথেই হেঁটেছিলেন। কিন্তু যে উইকেটে তখনও ব্যাটারদের জন্য তেমন কোনো জুজু ছিল না, সেখানে আয়োজকদের ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত দিনের শেষে যেন বুমেরাং হয়ে দাঁড়াল গিলের জন্য। বাজে বোলিং এবং সেরা পেসারের চোটের খেসারত দিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার স্কোর দাঁড়িয়েছে ২২৯/৬। ফলে ইতিমধ্যেই সফরকারীদের সামনে ১৬ রানের লিড দাঁড়িয়ে গেছে স্বাগতিকদের। সহজ জয় তুলে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে এখন ম্যাচ বাঁচাতে কিংবা জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে আবার ব্যাট করতে হবে ভারতীয় দলকে।
ম্যাচে রাশ শক্ত হাতে ধরার মোক্ষম সুযোগ ছিল ভারতের সামনে। কিন্তু দিনের প্রথম সেশন থেকে শেষ বিকেল—অধিকাংশ সময়জুড়েই ভারতীয় স্পিন ও পেস আক্রমণ সিংহলিজ ব্যাটারদের ওপর ন্যুনতম চাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। অথচ দিনের শুরুটা কিন্তু মোটেও মন্দ হয়নি। নতুন বলে অসাধারণ লাইন ও লেন্থে স্পেল শুরু করেন মহম্মদ সিরাজ। তাঁর বিষাক্ত বোলিংয়ে বিভ্রান্ত হয়ে মাত্র ৩ রানেই সাজঘরে ফেরেন লঙ্কান ওপেনার লাহিরু উডারা। অন্যদিকে প্রসিধ কৃষ্ণও অন্য প্রান্ত থেকে চেপে ধরেছিলেন লঙ্কান ব্যাটারদের। কিন্তু জাঁকিয়ে বসার আগেই এই ছন্দ হারিয়ে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন এবং পরিকল্পনাহীন বোলিংয়ের কারণে।
পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারার একটি শট বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলতে গিয়ে গুরুতর চোট পান সিরাজ। মাটিতে আছড়ে পড়ে পাঁজরে আঘাত লাগায় সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে হয় ভারতীয় পেস আক্রমণের এই সেরা অস্ত্রকে। সিরাজ মাঠ ছাড়তেই সুর বদলে যায় ম্যাচের। অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলারকে হারিয়ে এবং উইকেটের চরিত্র বুঝতে ভুল করায় পুরোপুরি দিশেহারা দেখায় ভারতের স্পিন আক্রমণকে। রবীন্দ্র জাদেজা কিংবা আক্সার প্যাটেলদের বলে স্পিন বা অসমান বাউন্সের দেখা মিলছিল না বললেই চলে। এমন ফ্ল্যাট পিচে লঙ্কান ব্যাটাররা ধরে খেলার যে ধৈর্য দেখালেন, ভারতীয় বোলাররা তা ভাঙতে পারলেন না।
দ্বিতীয় উইকেটে কামিল মিশারা ও সুরিয়াবান্দারা ৫৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে ভারতের ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেন। ভারতীয় স্পিনারদের লাইন ভন্ডুল করতে চমৎকার সুইপ ও ফুটওয়ার্কের মহড়া দেন লঙ্কান তরুণরা। জাদেজা অবশেষে ৩২ রানে থাকা মিশারাকে এলবিডব্লিউ (LBW) করে জুটি ভাঙলেও, ভারতকে সেই ব্রেক-থ্রু কোনো বড় সুবিধা এনে দিতে পারেনি। উলটে ক্রিজে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কামিন্দু মেন্ডিস। সুরিয়াবান্দারার সঙ্গে মিলে লঙ্কান ইনিংসের ভিত্তি শক্ত করে দেন তিনি। পরিস্থিতি একসময় এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে, ১৭৮/২ স্কোরে পৌঁছে অনায়াসে ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল শ্রীলঙ্কা।
দিনের শেষ সেশনে অবশ্য কিছুটা লড়াইয়ে ফেরে ভারত। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর ক্ষণিকের ভুলের সুযোগ নিয়ে পরপর কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ২২৯/৬ রানে আটকে ফেলে সফরকারীরা। তবে ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। ২১৩ রানের বিশাল ঘাটতি মুছে ফেলে উলটে ১৬ রানের লিড তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
আবহাওয়া আর সময়ের কথা ভেবে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, আদতে বোলিং ব্যর্থতা এবং চোটের ধাক্কায় শেষ দিনে বেশ কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে ভারত। পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার বাকি ৪টি উইকেট কত দ্রুত তোলা যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে গিলের দলের জয়ের ভাগ্য। আর যদি লঙ্কান লেজ আরও কিছু রান যোগ করে ফেলে, তবে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করাটা ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য মোটেও সহজ পরীক্ষা হবে না।
