বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা যাদবপুরে : শুভেন্দু

22 August, 2026 7:58 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ গত তিনদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে।

গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে বেশ উত্তপ্ত দেশের এই নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই চর্চাকে আরও উসকে দিয়েছে। এনিয়ে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শনিবার ভবানীপুরে এক অনুষ্ঠানে অশান্তি ছড়ানো পড়ুয়াদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা হবে। তিনি জানিয়েছেন, এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দেমাতরম গাইতে হবে। তাঁর অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বন্দেমাতরম গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওঠে না এখানে। শিক্ষাদপ্তরকে ঢুকতে দেয়নি, সিসিটিভি লাগাতে দেয় না। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” আমরা যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। যাদবপুর নিয়ে অনেকেই দেখেছি সোশাল মিডিয়ায় কাঁদছেন। তাঁরা শুনে রাখুন, এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দেমাতরম গাইতে হবে। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যারা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুলছে, তাদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব।”

এই ধরণের শ্লোগাণ কি আদৌ পড়ুয়াদের প্রতিবাদ নাকি আড়ালে আসলে ‘দেশবিরোধী’ কাজে উসকানি? এই প্রশ্নও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার গভীর রাতে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখনও থমথমে পরিস্থিতি। ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য অজ্ঞাতপরিচয় বহিরাগতদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ অগস্ট রাত থেকে ২০ অগস্টের ভোর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ায়। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একটি সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে এবিভিপি-র সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, বহিরাগত ডেকে আনা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পুলিশ ও র‍্যাফকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ঘটনার অন্যতম আলোচিত দিক হল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকচিহ্নের ক্ষতি।

নন্দলাল বসুর নকশা করা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের প্রতীকটি হামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুক্রবার সেটি মেরামত করে ফের বসানো হয়েছে। তবে প্রতীকচিহ্নের ক্ষতির ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।এদিকে তদন্তের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পরিধিতে পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের বেলায় বহিরাগতদের প্রবেশ কীভাবে সম্ভব হল, নিরাপত্তার কোথায় গাফিলতি ছিল এবং সংঘর্ষের সময় প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল এই প্রশ্নগুলিই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এখন মূল নজর তদন্তের দিকে। তিন সদস্যের কমিটির রিপোর্ট, পুলিশের এফআইআরের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে বহিরাগতদের প্রবেশ রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার উপরই নির্ভর করছে যাদবপুরের পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়। শিক্ষামহলের বড় অংশের দাবি, রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee