বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা, ফের উত্তপ্ত এসআরএফটিআই

04 October, 2026 5:55 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা:  রবিবার ফের ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) সামনে। বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। এমনকী গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টাও করেন বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। এসআরএফটিআইতে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া, ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছেঁড়ার অপমানের অভিযোগ ওঠে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের কর্মী সমর্থকদের তরফে রবিবার ছিল প্রতিবাদ মিছিল। আর সেই মিছিল ঘিরেই উত্তেজনা ছড়াল এসআইএফটিআই-এর গেটের বাইরে।

এদিন, অজয়নগর মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে পৌঁছায় এসআরএফটিআই ক্যাম্পাস পর্যন্ত। পাশাপাশি গত ২৭ তারিখ এসআরএফটিআই-এর ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের যথোপযুক্ত শাস্তির দাবি জানানো হয় এই মিছিল থেকে। এদিনের কর্মী ও সমর্থকদের হাতে ভারতমাতার ছবি, গেরুয়া ঝান্ডা নিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। সেই মিছিলটি এসআরএফটিআই-এর ক্যাম্পাসের সামনে আসার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। গেট ধরে ঝাঁকাতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে সভার আয়োজন করেছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত বা এবিজিপি। এই সভা ঘিরেই উত্তেজনা দেখা দেয়। সংগঠনের দাবি, তারা অনুমতি নিয়েই ক্যাম্পাসে এই সভা আয়োজন করেছিল। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের একাংশের আপত্তি ছিল বহিরাগতদের প্রবেশ ঘিরে। সেই ঘটনা নিয়েই দুই তরফের তুমুল সংঘাত বাধে। সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে গত রবিবারের অশান্তির ঘটনায় তদন্তে নেমে ২৫০ জনকে চিহ্নিত করে তদন্তকারী দল। তাঁদের মধ্যে উপাচার্য-সহ প্রতিষ্ঠানের ১০ জন কর্তৃপক্ষ, ১০ জন কমিউনিস্ট ছাত্রনেতা এবং এবিজিপির দু’জন সদস্য সহ মোট ২৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার তদন্তের ছ’পাতার  রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিট। অশান্তির ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের তরফে দু’টি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পাশাপাশি, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের তরফেও একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এরপরই ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।

লালবাজার সূত্রে জানা যায়,বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুণাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে সিটের সদস্যরা এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে যান। তদন্তকারীদের হাতে আসা একাধিক ভিডিও এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন, এমন ২৫০ জনকে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অশান্তির ঘটনায় দু’পক্ষেরই জড়িত থাকার সত্যতা মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। অশান্তি পাকানোর ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট ছাত্রদের ভূমিকা রয়েছে বলেও মনে করছে সিট। তবে ঠিক কারা অশান্তির নেপথ্যে ছিল, তা এখনও নিশ্চিত করে জানায়নি পুলিশ।  বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখবন্ধ খামে ছ’পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্ত চলাকালীন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই ক্যাম্পাস।

প্রতিবেদন

Sandipan Saha