বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া সদ্যোজাতকে উদ্ধার

08 September, 2026 7:04 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: লাল পিঁপড়েয় ঢেকে যাওয়া, রক্তমাখা এক সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সাধারণ গৃহবধূ। মর্মান্তিক এই ঘটনার সাক্ষী থাকল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত লক্ষীপাড়া এলাকা। গৃহবধূর সময়োচিত পদক্ষেপে এবং মাতৃসুলভ ভালোবাসায় অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচল ওই একরত্তির। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, লক্ষ্মীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শঙ্করী দাস প্রতিদিনের মতোই বিকেলে বাড়ির পাশের একটি বাঁশবাগানে গরু আনতে গিয়েছিলেন। বাগানের নির্জনতায় হঠাৎই তাঁর কানে আসে এক অস্পষ্ট এবং চাপা কান্নার শব্দ। প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে শব্দের উৎস সন্ধান করতে করতে জঙ্গলের কিছুটা গভীরে যান তিনি। সেখানে পৌঁছাতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় তাঁর। একটি পাতলা তোয়ালে মোড়া অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে সদ্যভূমিষ্ঠ এক শিশু। শরীরের বিভিন্ন অংশে তখনও তাজা রক্তের দাগ স্পষ্ট, যা থেকে অনুমান করা যাচ্ছে প্রসবের ঠিক পরেই তাকে নির্জন জঙ্গলে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। আরও শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য ছিল শিশুটির গায়ে থিকথিক করছিল বিষাক্ত লাল পিঁপড়ের দল। যন্ত্রনায় ছটফট করছিল একরত্তি। দৃশ্যের ভয়াবহতায় এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে শিশুটিকে কোল তুলে নেন শঙ্করী দেবী। তিনি জানান, আর কিছুক্ষণ দেরি হলেই হয়তো কুকুর-শিয়াল বাচ্চাটিকে তুলে নিয়ে যেত। জঙ্গলটিতে সন্ধ্যে নামলেই শিয়ালের দল ঘুরঘুর করে। কীভাবে একজন মা নিজের গর্ভের সন্তানকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে, ভেবে পাচ্ছি না। বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে সোজা নিজের বাড়িতে নিয়ে যান শঙ্করী দাস। পরম মমতায় তার গা থেকে লাল পিঁপড়ে পরিষ্কার করেন, হালকা গরম জলে তাকে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় পরিয়ে শুশ্রূষা করেন। নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখে তাকে দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় সদ্যোজাতকে অবিলম্বে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত স্থানান্তর করেন চাঁচল মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শিশুটির শরীরে পিঁপড়ের কামড়ের ক্ষত থাকলেও আপাতত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসাধীন থাকার মধ্যেই শঙ্করী দাস জানিয়েছেন, শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি এবং তাঁর পরিবার আইনানুযায়ী তার সমস্ত দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। দত্তক নেওয়ার প্রশাসনিক নিয়ম মেনে তাকে নিজের সন্তানের পরিচয় দিতে চান তিনি। এই ঘটনায় এলাকায় যেমন ওই জন্মদাত্রী মায়ের অমানবিকতা নিয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তেমনই শঙ্করী দাসের এই মানবিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুরো মালদহ জেলা।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik