যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ করা যাবে না, নির্ধারিত হল অন্য ৩টি ময়দান
সংবাদদাতা, দিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তর আর বিক্ষোভ অবস্থানের নির্দিষ্ট কেন্দ্র থাকছে না। রাজধানীতে প্রতিবাদ ও ধরনায় বসার জন্য নতুন করে তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভ ও আন্দোলনের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিল করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দিষ্ট জায়গাগুলি হল রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং সিবিডি গ্রাউন্ড। এতদিন দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের বিক্ষোভের অন্যতম পরিচিত জায়গা। এবার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
দিল্লির যন্তর মন্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল এলাকার মধ্যে পড়ে। সেখানে বড় জমায়েত হলে যান চলাচল, স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হয়। বিকল্প জায়গা নির্দিষ্ট করার পিছনে এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের বিকল্প জায়গা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও দিল্লি প্রশাসনকে ভাবনাচিন্তা করতে বলেছিল। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বজায় রেখেই নিরাপত্তা ও নাগরিক পরিষেবার মধ্যে ভারসাম্য রাখার উপর জোর দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। ২৮ এপ্রিল ২০২২-এ জারি করা দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এবার সেই স্থানই পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত এই তিনটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সংশোধিত কার্যপদ্ধতি বা এসওপি আলাদাভাবে জারি করা হবে। নতুন তিনটি জায়গায় বিক্ষোভের জন্যও প্রযোজ্য অনুমতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পুরনো ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার ফলে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে আসা সিজেপি নেতারা সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা থেকে বেরিয়ে আসার পর বিক্ষোভের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানের দাবি জানান। এরপরই এই নির্দেশটি আসে। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল এবং যন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের জন্য একটি তারিখ চাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, পুলিশ তাদের এই আবেদন গ্রহণ করলেও এখনও কোনও তারিখ দেয়নি কিংবা অনুমতি না দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেনি।
