বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

রাজ্যের গুণ্ডাদমন বিলে আপত্তি রাষ্ট্রপতির, সংশোধনের নির্দেশ, কটাক্ষ অভিষেকের

25 September, 2026 3:04 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: রাজ্য সরকারের ‘গুন্ডা দমন’ বিলটিতে আপত্তি জানিয়ে তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রস্তাবিত এই বিলে উল্লিখিত বিধির সঙ্গে কেন্দ্রীয় মাদক বিরোধী আইন ‘এনডিপিএস’-এর সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি এই পদক্ষেপ করেছেন। নবান্নকে একটি চিঠি পাঠিয়ে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত রাজ্য বিলে যে সব ব্যক্তিদের ‘গুন্ডা’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে মাদক পাচার বা নেশার কারবারে যুক্ত অপরাধীদেরও যুক্ত করা হয়েছে। অথচ ‘পিআইটিএনডিপিএস ১৯৮৮’ নামক আইনে ইতিমধ্যেই মাদক কারবারীদের প্রতিরোধমূলক সশ্রম সাজার সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বলবৎ রয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারের এই প্রস্তাবিত বিলে মাদক অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করায় কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাত হচ্ছে। এমন বিল ভারতীয় সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আইনি দ্বৈততা এড়াতে বিলে ২(ডি)(iii)(বি) অনুচ্ছেদ থেকে মাদক সংক্রান্ত ধারাটি ছেঁটে ফেলে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তে কিছুটা ব্যাকফুটে রাজ্য প্রশাসন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্যের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এটি সরকারের জন্য একটি সাময়িক ধাক্কা, কারণ দ্রুত বিলটি কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল। তবে কেন্দ্রীয় আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে পুনরায় বিধানসভায় পেশ করে বিলটি পাস করানোর আইনি পথ খোলা রয়েছে। তার পর বিলটি আবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।উল্লেখ্য, অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ রোধে গত জুন মাসে ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’ বিধানসভায় পেশ করে বিজেপি সরকার। বিরোধীদের ক্ষোভের মুখে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন যে, প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারির এই আইন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না। প্রস্তাবিত এই বিলে অসামাজিক কার্যকলাপ ও ‘গুন্ডা’-র সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের আদেশে নির্দিষ্ট কোনও এলাকা, শহর বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কার করার আইনি বিধান রয়েছে।

অন্য দিকে, এই বিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে তিনটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। গত ৬ আগস্ট খারিজ করে দেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি না থাকায় মামলা খারিজ করে হাই কোর্ট।

শুক্রবার কেন্দ্রের চিঠি আসার পরই এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একটি সংবাদপত্রের কাটিং প্রকাশ্যে এনে লেখেন, “পোস্টারে ডাবল ইঞ্জিন, প্রশাসনে রিভার্স গিয়ার। সংশোধনের জন্য হোমওয়ার্ক ফেরত পাঠানো হল।”

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  বারবার দাবি করেছিলেন যে, ‘গুণ্ডা দমন বিল’-এ রাজ্যপাল সই করেছেন এবং এটি ইতিমধ্যেই আইনে পরিণত হয়েছে। গত ২৪ জুলাই ধর্মতলার প্রতিবাদ মিছিলে হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এই ‘আইন’ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের নিজস্ব আইনজীবীরা স্বীকার করে নেন যে, বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। ফলে তা আইনে পরিণত হয়নি। বিচারপতির বেঞ্চও স্পষ্ট জানিয়েছে, বিলটি রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেয়ে গেজেট বিজ্ঞাপিত হলে তবেই মামলাকারীরা পুনরায় আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

প্রতিবেদন

UTSAB RC