ছবি যেখানে গল্প শোনায়...
কৌশানী রুদ্র
প্রায় ১৮ বছর আগের কথা। টেলিভিশন সাংবাদিকতা তখন বেশ জনপ্রিয়। সেরকমই একটা সময় একটি মেয়ে পরিবারের সবার অমতে সাংবাদিকতার পাকা চাকরিটা ছেড়ে দিল আচমকাই। তারপর বেশ কয়েক বছর কাটল এদিক ওদিক করে। কখনও নানান অনুবাদের কাজ, আবার কখনওবা ছোটবেলাকার ভালোবাসা ছবি আঁকা নিয়ে গড়িয়ে চলল সময়। রং, তুলির সঙ্গে তার আশৈশবের প্রেম। তবে তার ছবি আঁকা অবশ্য ছিল একটু অন্য ধারার। পোশাকের ওপরে বা বিভিন্ন মাটির আর কাঠের জিনিসের ওপর সে ফুটিয়ে তুলত রং–তুলির মায়াজাল। সালটা ২০১৯। নিজের ভালোবাসার কাজের প্রথম একক প্রদর্শনীর আয়োজন করল সে। তারপর থেকেই কখনও একা, কখনও অন্য সংগঠনের ডাকে আরও পাঁচজনের সঙ্গে মিলে কলকাতা বা তার আশেপাশে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শুরু। ক্রমশ কাজের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে থাকল দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। বহু চেনা–অচেনা–অল্পচেনা মানুষজন তার কাছ থেকে নিতে শুরু করলেন হাতে আঁকা পোশাক বা ঘর সাজানোর হরেক কিসিমের জিনিস। চার–চারটি মহাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল তার ক্রেতা, গুণগ্রাহী। এভাবেই বাংলা তথা ভারতীয় চিত্রশিল্পের জগতে পারমিতা সেনগুপ্ত হয়ে উঠেছেন এক পরিচিত নাম। তার কাজে কখনও উঠে আসে ভারতের কোনও প্রান্তের লোকশিল্প, কখনও বাংলার প্রকৃতি, কখনও পৃথিবীর অন্য প্রান্তের বাচ্চাদের প্রিয় কমিক্সের চরিত্র বা দক্ষিণ আমেরিকার কোনও এক দেশের দেওয়ালে আঁকা চে‘র মুখ। তাইতো শিল্পী পারমিতার ট্যাগলাইন—এথনিক থেকে আধুনিক, রঙে–রেখায় স্টাইলিশ।
এরকমই একগুচ্ছ অন্যরকম কাজ নিয়ে অন্য আরও অনেকের সঙ্গে পারমিতার ব্র্যান্ড ‘লক্ষ্মী প্যাঁচার
নkশা’র প্রদর্শনী চলছে ১৫,১৬,১৭ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সরোবর আর মেনকা সিনেমা হলের পাশে গ্যালারি গোল্ডে। এই শিল্পকথার সহযোগিতায় রয়েছে অপার বাংলা। প্রদর্শনী খোলা থাকছে প্রতিদিন দুপুর ৩ টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
