বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

জঙ্গিদের খোঁজে দেশজুড়ে এনআইএ-র তল্লাশি, রাজ্যে ৫ জায়গায় অভিযান, গ্রেপ্তার ৪

29 September, 2026 4:12 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা:  রাজ্যের মাটিতে স্লিপার সেল তৈরি ও জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের জাল বিস্তারের চক্রান্ত ভেস্তে দিতে মঙ্গলবার একযোগে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালায় এনআইএ। এদিন সকাল থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবার-সহ মোট পাঁচটি জায়গার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি। এই অভিযানে রাজ্য থেকে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলকোট থেকে পিয়ার মহম্মদ, বজবজ থেকে জুমান শেখ ও শাহরুল পুরকায়েত এবং নরেন্দ্রপুর থেকে অআবদুল রফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অসমের একটি মামলার সূত্র ধরে এবং নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এনআইএ-র একাধিক টিম এই তল্লাশি অভিযান চালায়। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই তল্লাশি অভিযানের কারণ গত সপ্তাহে অসমে গ্রেপ্তার হওয়া এক সন্দেহভাজন যুবকের জবানবন্দিতে। কেন্দ্রীয় সংস্থা জানতে পেরেছে, ধৃত ওই যুবক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিনের একজন অত্যন্ত সক্রিয় সদস্য। তাঁকে হেপাজতে নিয়ে লাগাতার জেরার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে তদন্তকারীদের হাতে। ধৃতকে জেরা করে এবং তাঁর ল্যাপটপ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ঘেঁটে আধিকারিকরা জানতে পারেন, পশ্চিমবঙ্গেও জেএমবি-র একটি শক্তিশালী মডিউল অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত সমাজমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্ত্র করেই এ রাজ্যে জাল ফেলার চেষ্টা করছে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন। নেটদুনিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজ্যের বেশ কিছু যুবকের মগজধোলাই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ওই যুবকদের উগ্রপন্থায় প্ররোচিত করে গোপনে স্লিপার সেল  গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। ধৃত যুবকের থেকে প্রাপ্ত ডিজিটাল নথি ও তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের দু’টি জায়গায়, ডায়মন্ড হারবারের দুটি জায়গা এবং পূর্ব বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট আস্তানায় হানা দেন এনআইএ-র আধিকারিকরা।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং এলাকা থেকে হামিদ মহম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জেরায় জানা যায়, ধৃত হামিদ পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে পরিচয় গোপন করে এ রাজ্যেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামিদকে জেরার পর যে তথ্য উঠে এসেছিল, তা শুনে শিউরে উঠেছিলেন গোয়েন্দারা। দেখা যায়, সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল সে। মুখ্যমন্ত্রী কখন বেরোচ্ছেন, কোন গাড়িতে উঠবেন, গাড়ির চালক কে এবং গাড়ি কোথায় পার্কিং করা হবে এমন একাধিক অতিসংবেদনশীল ও নিরাপত্তার নথি হামিদের কাছে সংরক্ষিত ছিল।

পরবর্তীকালে হাবড়া এলাকা থেকে রানা রউফ-সহ আরও বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল। মঙ্গলবারের এই তল্লাশি অভিযানের পর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা আশাবাদী, জেএমবি-র গোপন নেটওয়ার্ক এবং এদের অর্থের উৎস সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে, রাজ্যের যুবসমাজকে কোন পথে উগ্রপন্থার পথে টানা হচ্ছিল, সেই চক্রের মূল পান্ডাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। সব মিলিয়ে, রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

পাশাপাশি অসমের বিভিন্ন জেলায় জঙ্গিগোষ্ঠী বিশেষ করে আল-কায়েদা সংক্রান্ত স্লিপার সেল এবং ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে মৌলবাদ ছড়ানোর অভিযোগে তল্লাশি চালানো হয়।  কেরলের একাধিক এলাকায় সন্দেহজনক ঘাঁটিতে এনআইএর বিশেষ দল অভিযান চালিয়েছে। অর্থাৎ দেশে জঙ্গিসংগঠনের বিস্তার কমাতে একযোগে দেশজুড়ে অভিযান চালায় এনআইএ।

প্রতিবেদন

Sandipan Saha