সময় চেয়ে ফের স্পিকারকে চিঠি, কলকাতায় NCPI-এর বৈঠকে গরহাজির ১০ সাংসদ
সংবাদদাতা, কলকাতা: NCPI-এর বৈঠকে গরহাজির ১০ সাংসদ। বৃহস্পতিবার কলকাতার এক হোটেলে বৈঠক ডেকেছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচ্য বিষয় ছিল পরবর্তী কৌশল, সঙ্গে ছিল ভূরিভোজের আয়োজনও। কিন্তু সেই বৈঠকে হাজির হলেন মাত্র অর্ধেক সাংসদ, বাকি ৫০ শতাংশই রইলেন অনুপস্থিত।
এদিনের বৈঠকে আসেননি কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মালা রায়, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, কালীপদ সোরেন, দেব এবং অসিত মাল। সুদীপ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আবু তাহের, খলিলুর রহমান, শর্মিলা সরকার, জগদীশ বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ চক্রবর্তী। কেন এলেন না ১০ জন? বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ বলেন, “কেউ আমেরিকা গিয়েছেন, কারও ছেলের শরীর খারাপ, কারও অন্য মিটিং রয়েছে।” তাঁর দাবি, অনুপস্থিত সকলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ শর্মিলার বক্তব্য, “যাঁরা আসেননি, তাঁদের সঙ্গে কোনও মনোমালিন্যের ব্যাপার নেই।” পুজোর আগে বলে বৈঠকে খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্তও ছিল। সাংসদদের রসনাতৃপ্তির জন্য ছিল চিকেন ও মটনের একাধিক পদ, মিষ্টি দই, ঘোল এবং পোলাওয়ের সঙ্গে খাওয়ার জন্য বিশেষ ধরনের রায়তা।
#WATCH | Kolkata, West Bengal: On the meeting of party MPs, NCPI leader Satabdi Roy says, “We submitted a letter to the Speaker again, requesting a two-week extension. We had to submit that letter; we decided on it collectively and handed it over… Regarding the ten MPs who didn’t show up—it wasn’t expected that they would; some were out of town, others were attending meetings—like the DISHA meeting. We already knew who ten wouldn’t come…”
On the INDIA bloc protests, she adds, “Mamata Banerjee has always fought these battles, and she will continue to do so. Her visit to Delhi will add significance to the issue. Her presence brings greater weight to the matter, which is a good thing; this is how it should be. Until a formal judgment is delivered—until it is proven—what you are saying or what they are saying holds no weight… I am certainly not in a position to pass such a judgment…”
— ANI (@ANI) October 8, 2026
বৈঠকের আসল উদ্দেশ্য় ছিল স্পিকারের নির্দেশের সময়সীমা। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এনসিপিআই সাংসদরা জবাব দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। স্পিকার চিঠি দিয়ে জানান, চার সপ্তাহ নয়, দু’সপ্তাহের মধ্যেই জবাব দিতে হবে। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবারই। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, স্পিকারকে ফের চিঠি দিয়ে আরও দু’সপ্তাহ সময় চাওয়া হবে। স্পিকার জানতে চেয়েছিলেন, কোন যুক্তিতে তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং কেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর হবে না। প্রথমে সাত দিন, দ্বিতীয় দফায় তিন সপ্তাহ এবং তৃতীয় দফায় আরও দু’সপ্তাহ সময় পেয়েছেন সাংসদেরা। এ বার স্পিকার সময়বৃদ্ধির আর্জি মঞ্জুর করলে চতুর্থবারের জন্য বাড়তি সময় পাবেন ২০ জন।
এই ২০ জনের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর করার আর্জি লিখিত ভাবে স্পিকারের কাছে জানানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা করে অভিযোগ জমা পড়ে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টেও পিটিশন দাখিল করে। তার পরেই স্পিকারের সচিবালয় জবাব চেয়ে পাঠায়। ইতিমধ্যেই কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এক বছরের মধ্যে এই ২০ জনের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর করে ২০টি আসনে উপনির্বাচন করাবেন। এখন দেখার, স্পিকার সুদীপদের আরও কিছুটা সময় দেন কি না।
