পুজোর মরশুমে মহারাষ্ট্রে জলের হাহাকার, খরার হাতছানি, অপচয়ে জরিমানা
নাগপুর: মহারাষ্ট্রে পুজোর মরশুমেই তীব্র জলসংকট শুরু হয়েছে। বৃষ্টির ঘাটতি এবং জলাধারগুলিতে কমতে থাকা জলস্তরের জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় পানীয় জলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, ইতিমধ্যেই ১০টি জেলার ৫১৭টি গ্রাম এবং ২১৪৭টি বসতিতে জল পৌঁছে দিতে ৬১১টি সরকারি ট্যাঙ্কার নামাতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংকট মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে। অহল্যানগর, ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এবং বিদ জেলায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। শুকিয়ে যাচ্ছে কুয়ো ও নলকূপ, চাষের জমিতেও জলের অভাব প্রকট হচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় সপ্তাহে একদিন জল সরবারহ বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। গাড়ি ধোয়া, বাগানে গাছে জল দেওয়া ইত্যাদি কাজও বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। জল অপচয়ে জরিমানা এবং এফআইআর করার কথাও বলা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে রাজ্যজুড়ে অন্তত ১০ শতাংশ জল ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। পানীয় জল সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জল অপচয় বন্ধ করা এবং পরিশোধিত বর্জ্যজলের পুনর্ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। খরার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্যও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই যদি এই পরিস্থিতি হয়, তবে আগামী গ্রীষ্মে সংকট কোন পর্যায়ে পৌঁছবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জলাধার ও ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার রক্ষা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জল ব্যবস্থাপনা এখন মহারাষ্ট্রের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুণেতে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার জল সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাগপুরেও ক্রমে তীব্র হচ্ছে জলসংকট। রাজ্যের ৩৫৮টি তালুকের মধ্যে ২৬৫টিকে ইতিমধ্যেই খরা আক্রান্ত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
