বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

বাসি মাংস থেকে মশলায় রং, কলকাতার ৪০ রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড

08 September, 2026 5:22 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: পুজোর মুখে শহরের রেস্তোরাঁ ও খাদ্য বিপণিতে বড়সড় খাদ্য সুরক্ষা অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। গত এক সপ্তাহে কলকাতার প্রায় ১৭০টি রেস্তোরাঁ ও খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়মের হদিশ পেয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। কোথাও দিনের পর দিন সংরক্ষণ করে রাখা মাংস, কোথাও ফ্রিজারে রাখা মাংসে ছত্রাক, আবার কোথাও রান্নার মশলায় মিলেছে খাদ্যোপযোগী নয় এমন উপাদান। এই পরিস্থিতিতে শহরের প্রায় ৪০টি বড় রেস্তোরাঁর খাদ্য সুরক্ষা লাইসেন্স সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে উঠে এসেছে বেশ কিছু রেস্তোরাঁয় কাঁচা মাংস ও মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছিল না। কোথাও দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজারে রাখা মাংসের গায়ে ছত্রাক দেখা যায়। কোথাও আবার মেয়াদ বা সংরক্ষণের তারিখ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যই ছিল না। শুক্রবার পার্ক স্ট্রিট এলাকার একাধিক নামী রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়েও বাসি ও মানুষের খাওয়ার অনুপযুক্ত মাংস ও মাছ উদ্ধার করে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়। শুধু পার্ক স্ট্রিট নয়, নাগেরবাজার, ট্যাংরা-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায়ও অভিযান চালানো হয়েছে। নাগেরবাজারের একাধিক নামী রেস্তোরাঁয় পুলিশ, কলকাতা পুরসভা এবং খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা একযোগে অভিযান চালান। ফ্রিজারে রাখা মাংস, অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী এবং সেগুলির মেয়াদ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করে। এই অভিযানে নাম উঠে এসেছে নাগেরবাজারের আরসালান, রিপন স্ট্রিটের করিম’স, বাইপাসের শিমলা বিরিয়ানি-সহ একাধিক পরিচিত খাদ্য প্রতিষ্ঠানের। শহরের বহু পুরনো ও জনপ্রিয় রেস্তোরাঁও এবার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের নজর এড়াতে পারেনি। এর মধ্যে কলকাতা পুরসভার সংলগ্ন শতাব্দীপ্রাচীন নিজামস-এর নামও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলির একটি হল বিরিয়ানির মশলায় খাদ্যোপযোগী নয় এমন রং বা দেওয়ালের রঙের মতো উপাদান পাওয়ার ঘটনা। খাদ্যসামগ্রীতে অনুমোদিত নয় এমন রং ব্যবহার স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্যই হল খাবারে ভেজাল, নিষিদ্ধ রং এবং নিম্নমানের উপাদানের ব্যবহার বন্ধ করা। এর আগেও রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে বিপুল সংখ্যক দোকান ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরা পড়েছে।
৩ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয় মাত্র দু’দিনের অভিযানে ১,৫০০-র বেশি খাবারের দোকানে অনিয়ম ধরা পড়ে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, খাদ্যের মান ও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনও আপোস করা হবে না। বিশেষ করে পুজোর মরশুমে কলকাতার রেস্তোরাঁগুলিতে ভিড় বাড়ে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাইরে খাওয়াদাওয়া করেন। ফলে খাদ্যসামগ্রীর গুণমান, সংরক্ষণ পদ্ধতি, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা জরুরি। শাসনের এই কড়া পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই শহরের রেস্তোরাঁ মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
তবে আধিকারিকদের বক্তব্য, লাইসেন্স সাসপেন্ড করা শুধু শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়, ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলার জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা। আগামী দিনগুলিতেও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অভিযান চলবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। খাদ্য সুরক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনের এই নজরদারি শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে বাসি মাংস, ছত্রাক ধরা খাবার কিংবা খাদ্যে অননুমোদিত রং ব্যবহারের মতো অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় কলকাতার খাদ্যপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।মানুষ চাইছে ধারাবাহিক ভাবে এই অভিযান চলুক।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik