এলাহাবাদ হাইকোর্টের ভর্ৎসনা জ্ঞানেশ কন্যা মেধা রূপমকে
সংবাদদাতা, এলাহাবাদ: এলাহাবাদ হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে তথা নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপম। শান্তিপূর্ণ শ্রমিক বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক করার ঘটনায় মেধা রূপমের ওপর ক্ষুদ্ধ হাইকোর্ট।
গত ১২ এপ্রিলের ঘটনা। নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, বঙ্গতনয়া আকৃতি চৌধুরী।
তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের হিংসা, পাথর ছোড়া এবং অগ্নিসংযোগে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
তখনই আকৃতিকে আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপম। টানা পাঁচ মাস জেল হেফাজতে থাকতে হয়েছিল আকৃতিকে। বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন জানায়, আকৃতিকে এতদিন আটকে রাখার ফলে তাঁর ‘জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার, অর্থাৎ সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে।’ আদালত জানিয়েছে, আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের ভিত্তি হিসেবে দেওয়া তথ্যপ্রমাণ যথেষ্ট ছিল না। এক্ষেত্রেই জ্ঞানেশ–কন্যার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এনএসএ–কে কখনওই সাধারণ ফৌজদারি আইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। আকৃতির বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলিকে ‘পুনরাবৃত্তিমূলক, অনুমাননির্ভর এবং শুধুমাত্র মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি’ বলে মন্তব্য করেছে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের তরফে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র অনুমান, পক্ষপাত বা ধারণার ভিত্তিতে কাউকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায় না। আদালত জানিয়েছে, প্রশাসনের এরকম ‘স্বৈরাচারী’ ব্যবহার চলতে থাকলে উত্তরপ্রদেশ একদিন ব্রিটিশ আমলের মতো চরম দমন–পীড়ন মূলক প্রশাসনে পরিণত হতে পারে। অর্থাৎ, এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিক স্বাধীনতা এবং তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই ঘটনায় মেধা রূপমকে নিজের বেতন থেকে আকৃতিকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য আধিকারিকদের মেধার বেতন থেকে ওই টাকা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে জেলাশাসক এবং এনএলএ-র নথি তৈরিতে যুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও আদালতের ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছে এবং তাঁদের সার্ভিস রেকর্ডে এই ঘটনা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আমলা এবং পুলিশ আধিকারিকদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয় নাগরিকদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার, মর্যাদা রক্ষার জন্য। তার অপব্যবহার অত্যন্ত গর্হিত কাজ। সেই কারণেই ভর্ৎসনা করা হল জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা মেধা রূপমকে।
