LAC-তে কমেছে চিনা সেনা মোতায়েন, সেনার বার্ষিক রিপোর্টে স্বস্তি কেন্দ্রের
নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর: ভারতের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনা মোতায়েন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে প্রকাশিত এই তথ্য সীমান্ত পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সেনাবাহিনীর দাবি, চিনা বাহিনীর সংখ্যা কমলেও এলএসি জুড়ে ভারতীয় সেনা মোতায়েন পুরোপুরি সুসংহত এবং যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে চলা ইতিবাচক আলোচনার ফলেই সীমান্তে এই স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। উল্লেখ রয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে পূর্ব লাদাখে অনুষ্ঠিত ২৩তম কর্পস কমান্ডার স্তরের বৈঠকের কথাও, এবং সব সেক্টরেই সৌজন্যমূলক পরিবেশে সীমান্ত কর্মী পর্যায়ের বৈঠক চালু থাকার কথা।
অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য এবং কাশ্মীরে স্বাভাবিকতা
শুধু চিন সীমান্ত নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্তপারের অন্যান্য চ্যালেঞ্জ নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যকে দেশের বহুমুখী সামরিক সক্ষমতা, উন্নত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের এক জোরালো দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে সেনা।
জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সেনাবাহিনী। উপত্যকায় হিংসা ও বিক্ষোভের ঘটনা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে, এমনকি গত এক বছরে একটিও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এখন সরকারি ও সামরিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
অনুপ্রবেশ কমলেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বেড়েছে
২০২৫ সালে সীমান্তে ছয়টি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছিল, যার মোকাবিলায় ১২ জন পাকিস্তানি জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল, স্থানীয় যুবকদের জঙ্গি সংগঠনে যোগদানের হার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে — সারা বছরে মাত্র একজন স্থানীয় তরুণ জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছে, যা পাকিস্তানের অতিরঞ্জিত দাবিকে ভুল প্রমাণ করে বলে মত সেনার।
তবে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশ কমলেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে মাত্র দুটি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৩-তে, যার মধ্যে ১২৪টি ঘটনাই ঘটেছিল অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন। পরে দুই দেশের ডিজিএমও পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পশ্চিম সীমান্তে ড্রোন অনুপ্রবেশ নতুন উদ্বেগ
পশ্চিম সীমান্তে ড্রোনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ এখন নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং জম্মু-কাশ্মীর সীমান্ত মিলিয়ে মোট ৮৬৩টি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২৩৭টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে ভারতীয় সেনা। এই ড্রোনগুলির মাধ্যমে মূলত মাদক ও অস্ত্র পাচারের চেষ্টা চলছিল বলে জানা গেছে। সেনার কড়া নজরদারির ফলে সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র ও মাদক বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয়েছে।
