মানাসলু শৃঙ্গে ভয়াবহ তুষারধস মর্মান্তিক মৃত্যু পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতির
সংবাদদাতা, নদীয়া: বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম নেপালের মানাসলু জয় করতে গিয়ে তুষারধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহ (৩৬)। গত শনিবার রাতে মানাসলুর ক্যাম্প-৩ এর কাছে এক ভয়াবহ তুষারধসে চাপা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর বিশ্বস্ত শেরপা গাইড ফুরসেম্বারও। ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে।
কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা ধ্রুবজ্যোতি পেশায় ছিলেন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। জার্মানির একটি বিখ্যাত বহুজাতিক সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন তিনি। কাজের সূত্রে প্রবাসে বসবাস করলেও ছোটবেলা থেকেই পাহাড়ের দুর্গম শৃঙ্গ স্পর্শ করার স্বপ্ন ছিল ধ্রুবজ্যোতি। দেশ-বিদেশের একাধিক কঠিন পর্বত অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করার পর, তাঁর সাম্প্রতিক লক্ষ্য ছিল হিমালয়ের মানাসলু শৃঙ্গ জয় করা। সেই উদ্দেশ্যে দিনকয়েক আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পর্বতারোহণের সরঞ্জাম নিয়ে নেপাল পৌঁছান তিনি। অভিযানকারী ও স্থানীয় সূত্রের খবর, কয়েক দিন ধরেই মানাসলু অঞ্চলে আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে ওঠে। ক্যাম্প-৩-এর উপরে আচমকা তুষারধস নামায় শৃঙ্গজয়ের মূল রোপ বা ফিক্সড লাইন ছিঁড়ে যায় এবং রুট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত শেরপা দল পাঠিয়ে পথ সংস্কারের কাজ শুরু হলেও খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে বেশ কিছু পর্বতারোহী নীচের শিবিরের দিকে নেমে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ধ্রুবজ্যোতি এবং তাঁর শেরপা ফুরসেম্বা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সামিট শেষ করার উদ্দেশ্যে ক্যাম্প-৩-এ অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন। গত শনিবার রাতে ক্যাম্প-৩-এর তাঁবুর ভিতরেই বিশ্রামে ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি ও ফুরসেম্বা। ঠিক সেই সময় উপর থেকে আচমকা এক বিশাল তুষারধস নেমে আসে তাঁদের তাঁবুর ওপর। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তীব্র বরফের চাপে ধসে পড়ে তাঁবুটি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেস ক্যাম্পের সঙ্গে তাঁদের সমস্ত রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: কেরালায় হড়পা বান, ভূমিধসে মৃত অন্তত ৫
রবিবার সকালে বেস ক্যাম্প থেকে দ্রুত একটি উদ্ধারকারী দল ক্যাম্প-৩-এর উদ্দেশে রওনা হয়। এলাকায় পৌঁছে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর প্রায় সাত ফুট তাজা বরফের নীচে চাপা পড়ে থাকা তাঁবুর সন্ধান মেলে। বরফ কেটে ভিতরে প্রবেশ করতেই দুই পর্বতারোহীর প্রাণহীন নিথর দেহ দেখতে পান উদ্ধারকারীরা। রবিবার বিকেলে ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুর খবর কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলার বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজন ও প্রতিবেশীরা। পাহাড়ের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও মেধার কথা স্মরণ করে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন সহপাঠীরা। পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেহ দুটিকে বেস ক্যাম্পে নামিয়ে আনার কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ময়নাতদন্তের পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
