ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি রাজ্যে
সুনেত্রা সেনগুপ্ত : সকাল থেকে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত কলকাতার স্বাভাবিক জনজীবন। বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহন অন্য দিনের তুলনায় ধীর গতিতে চলাচল করছে। শহর এবং শহরতলির কিছু রাস্তায়, বিশেষত নিচু এলাকাগুলিতে জল জমতে শুরু করেছে। তার জেরে সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।সোমবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ কালো। টানা বৃষ্টি চলছে।
তার জেরে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই জল জমতে শুরু করেছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, ঠনঠনিয়া, কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, দক্ষিণ বেহালা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, গড়িয়াহাট-সহ বেশ কিছু এলাকায় জল জমেছে। টানা বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যে কলকাতার ১৬টি বরোর সব পাম্পিং স্টেশন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এদিন সকালে ঠনঠনিয়ার কিছু এলাকায় প্রায় হাঁটু ছুঁইছুঁই জল জমে যায়। তবে পুরসভা সূত্রে খবর, সেখানে জল জমার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আগে থেকেই কাজ চলছিল। পুরসভার ওই কাজের জন্য সেখানে জল জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সূত্রের খবর। এ দিন সকাল থেকে বরো এগ্জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলছেন নিকাশি বিভাগের ডিজি শান্তনু ঘোষ। ইতিমধ্যে পুর আধিকারিকেরাও বেশ কয়েক দফা বৈঠক সেরেছেন। যে যে এলাকায় জল জমেছে, তা পাম্প করে বার করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুর প্রশাসন। তবে বৃষ্টি হতে থাকায় জমা জল এখনও বার করা যায়নি।
উল্লেখ্য, আরও শক্তিশালী উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ। উত্তর ওড়িশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূল জুড়ে নিম্নচাপের প্রভাব। আলিপুর আবহাওয়ায় দফতর জানিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। আজ পশ্চিম মেদিনীপুর বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতি বৃষ্টির লাল সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গে।
উপকূল ও পশ্চিমের জেলায় প্রতি বৃষ্টির সতর্কতা। কাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি চলবে দক্ষিণবঙ্গে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি ওপরের দিকে দুই তিন জেলায়। বাকি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা। মৌসম ভবন সূত্রে খবর, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের সুস্পষ্ট নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত।
কলকাতার কাছাকাছি অবস্থান। এর প্রভাব উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূল। এটি দক্ষিণ দিকে ঝুঁকে রয়েছে। ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে ঝাড়খণ্ডের পথে এগোবে। বুধবার থেকে আকাশ পরিষ্কারের সম্ভবনা রয়েছে।
