অমিত মালব্যর বিদায়! বিজেপির নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান দীপক মহস্কে
নয়াদিল্লি : দেশজুড়ে আসন্ন একাধিক রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে নিজেদের সর্বভারতীয় ডিজিটাল ও প্রচার উইং ঢেলে সাজাল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘদিনের আইটি সেল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান অমিত মালব্যকে সরিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় সোশ্যাল মিডিয়া আহ্বায়ক (Convener) পদে নিয়োগ করা হলো দীপক মহস্কে-কে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন পদে দীপক মহস্কেকে সহায়তার জন্য প্রীতি গান্ধী, শিবানন্দ দ্বিবেদী, অলোক ভাট এবং অরুণ যাদবকে সহ-আহ্বায়ক করা হয়েছে।
ডিজিটাল যোগাযোগ ও মিডিয়া উইঙে বড় রদবদল
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এখন সামাজিক মাধ্যমই সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। সেই কথা মাথায় রেখেই বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় টিমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের পাশাপাশি দলের মিডিয়া স্ট্র্যাটেজি বা গণমাধ্যম কৌশলের মূল দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অনিল বালুনির হাতে। মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর অনিল বালুনির সঙ্গে যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্ব সামলাবেন আশিস উষা আগরওয়াল, প্রদীপ ভান্ডারি এবং সিদ্ধান্ত যাদব।
অমিত মালব্যর বিদায়ী বার্তা
দলের এই সিদ্ধান্তের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (টুইটার) নতুন টিমকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করেন দীর্ঘদিনের সোশ্যাল মিডিয়া ইন-চার্জ অমিত মালব্য। তিনি লেখেন, “বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলা দীপক মহস্কেজি এবং অন্য সহ-আহ্বায়কদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিগত এক দশক ধরে এদের প্রত্যেকের সঙ্গেই আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি নিশ্চিত, তাঁদের নেতৃত্বে বিজেপির ডিজিটাল প্রচার নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবে।”
অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়: প্রধানমন্ত্রী
বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন পদাধিকারীদের তালিকা ঘোষণা করার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নবনিযুক্ত নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান। ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এই নতুন টিমে দলের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের জনসংযোগ এবং তারুণ্যের উদ্দীপনার এক অনবদ্য মেলবন্ধন ঘটেছে। আমি নিশ্চিত যে, তাঁরা দলকে সুসংগঠিত রাখতে এবং জনসেবার কাজে নিজেদের সর্বোচ্চ উজার করে দেবে।”
সর্বভারতীয় টিমে একাধিক হেভিওয়েট নেতা
সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি জাতীয় সংগঠনেও নতুন ও পুরনো মুখের ভারসাম্য বজায় রেখেছে দল। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে বি এল সন্তোষকেই রেখে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সাহায্য করতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) করা হয়েছে শিবপ্রকাশ এবং সৌদান সিংহকে।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে দলের অন্যতম জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর ওপর উত্তরপ্রদেশের বিশেষ দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে। স্মৃতি ইরানি ছাড়া আট জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় রয়েছেন বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনশল, বিপ্লব কুমার দেব, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া।
অন্যদিকে, রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, রাম মাধব এবং বৈজয়ন্ত জয় পান্ডাকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেখা বর্মা, বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই জোশী এবং ভারতী প্রবীণ পাওয়ার সহ মোট ১৩ জনকে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচার ও সংগঠন—উভয় বিভাগেই নতুন টিমের মাধ্যমে সর্বভারতীয় স্তরে বার্তা দিতে চাইছে পদ্ম শিবির।
