India vs Afghanistan: দিল্লির রাতে অভিষেকের ব্যাটে পুরনো ভারতের প্রত্যাবর্তন
নয়াদিল্লি: ভারত বনাম আফগানিস্তান প্রথম টি-টোয়েন্টি-তে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে একেবারেই একপেশে ছবি। ১৫৬/৮-এ আফগানিস্তানের ইনিংস থামিয়ে ১৩.৪ ওভারেই ১৫৭/৩ তুলে নিল ভারত। ৩৮ বল বাকি থাকতে সাত উইকেটের জয় শ্রেয়স আইয়ারের দলের। আর সেই জয়ের মঞ্চটা সবচেয়ে উজ্জ্বল করে তুললেন অভিষেক শর্মা—মাত্র ৩২ বলে ৮২ রানের ঝড়ে।

ভারত বনাম আফগানিস্তান প্রথম টি-টোয়েন্টি: শুরুতেই ধাক্কা
ভারত বনাম আফগানিস্তান প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের স্কোরবোর্ডে তখন ৪৩/৫। আফগানিস্তানের ইনিংস যেন অর্ধেক পথেই থেমে গিয়েছে। একের পর এক উইকেট পড়েছে, ভারতের বোলাররা চেপে ধরেছেন। ২০ ওভারের ম্যাচে এই জায়গা থেকে কত দূরই বা যাওয়া যায়? আজমতউল্লাহ উমরজাই আর মহম্মদ নবি সেই হিসাবটা বদলে দিলেন। দু’জনে মিলে ৫৬ বলে ৮৩ রান। আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত ১৫৬/৮। উমরজাই ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৪, নবি ২৭ বলে ৩৩। ধস সামলে একটা লড়াইয়ের রান তুলে ফেলেছিল আফগানিস্তান।
অভিষেকের ব্যাটে ঝড়
তারপরই অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে পাল্টে গেল ম্যাচের গতি। ভারতের ইনিংস শুরু হতেই অভিষেক শর্মা যেন রান তাড়ার সময়টাকে ছোট করে দিতে নামলেন। ৩২ বল খেললেন, ৮২ রান করলেন। সাতটি চার, সাতটি ছয়। পঞ্চাশ করতে লাগল ২২ বল। বিশ্বকাপের পর তাঁর ব্যাটে রান ছিল না। কয়েকটি ইনিংস ধরে বড় স্কোরের অপেক্ষা চলছিল। দিল্লিতে সেই অপেক্ষার শেষটা হল বেশ জোরে। কোনও ধীরে শুরু, সেট হওয়ার চেষ্টা বা নিরাপদ ক্রিকেট নয়—২২ বলে পঞ্চাশ। শেষ পর্যন্ত ২৫৬.২৫ স্ট্রাইক রেট।
আরও পড়ুন: Indian Men’s Cricket Team: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দলে সঞ্জু-বুমরাহ, বাদ রিঙ্কু-হার্দিক
পাওয়ার-প্লে শেষ হওয়ার আগেই ভারতের রান ৮২/১। ১৫৭ রান তাড়া করতে নেমে ছয় ওভারেই অর্ধেকের বেশি রান তুলে ফেললে বোলিং দল কী করবে? রশিদ-নবীদের কাছেও তার জবাব ছিল না। ঈশান কিষাণ তখন অন্য প্রান্তে। অভিষেকের ঝড়ে নিজেকে হারিয়ে যেতে দেননি। দ্বিতীয় উইকেটে দু’জনে ৫৩ বলে ১২১ রান যোগ করলেন। ইশানের ৪২ এসেছে ৩৩ বলে। সঞ্জু স্যামসন ১০ করে ফিরেছেন, কিন্তু রান তোলার গতি থামেনি। ১৩.৪ ওভারে ১৫৭/৩। ৩৮ বল তখনও বাকি।
ভারত বনাম আফগানিস্তান প্রথম টি-টোয়েন্টি-তে বোলিং আগ্রাসন
ভারতের বোলিংয়ের শুরুটাও ছিল একই রকম আগ্রাসী। অর্শদীপ সিংহ ৩/১৯। জসপ্রীত বুমরাহ, অক্ষর পটেল ও বরুণ চক্রবর্তী একটি করে উইকেট নেন।আফগানিস্তানের প্রথম পাঁচ উইকেট পড়ে যায় ৪৩ রানের মধ্যে। পরে উমরজাই-নবির জুটি ইনিংসটা বাঁচায়, কিন্তু ভারতকে চাপে ফেলার মতো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারেনি। অক্ষর আর বরুণকে নিয়েও আলাদা করে ভাবার কারণ আছে। বিশ্বকাপে দু’জনে মিলে ২৫ উইকেট নিয়েছিলেন। তার পরের কয়েক মাসে সেই দাপটটা কমে গিয়েছিল। দিল্লিতে বরুণ উইকেট পেলেন, অক্ষর রান আটকে রাখলেন। অর্শদীপের নতুন বলের সাফল্যের সঙ্গে মাঝের ওভারে এই নিয়ন্ত্রণটা যোগ হওয়ায় আফগানিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা আরও সরু হয়েছে।
আফগানিস্তানের লড়াইটা তাই ছিল অর্ধেক। ৪৩/৫ থেকে ১৫৬/৮ অবশ্যই খারাপ প্রত্যাবর্তন নয়। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে প্রথম পাঁচ উইকেট এত তাড়াতাড়ি হারালে পরে শুধু রান তুলে ম্যাচ বাঁচানো কঠিন। ভারতের ব্যাটিং সেই সুযোগটুকুও দেয়নি। একটা জায়গায় অবশ্য প্রশ্ন থাকছে। হার্দিক পাণ্ডিয়া নেই। ফলে পঞ্চম বোলারের ভারসাম্য কতটা কার্যকর, এই ম্যাচে তার পরীক্ষা হয়নি। আফগানিস্তানের প্রথম দিকের ধস ভারতকে সেই পরীক্ষার প্রয়োজনই পড়তে দেয়নি।
বিশ্বজয়ীদের প্রত্যাবর্তন
দিল্লির রাতটা তাই শুধু সাত উইকেটের জয় নয়। বিশ্বকাপের পর যে ভারতকে মাঝে মাঝে একটু ছন্দহীন লাগছিল, সেই দলের পরিচিত কয়েকটা দৃশ্য আবার একসঙ্গে দেখা গেল—অর্শদীপের শুরুতেই আঘাত, স্পিনারদের নিয়ন্ত্রণ, আর রান তাড়ায় কোনও অযথা অপেক্ষা নয়।
