রাজনীতি ছেড়ে দেবেন, বিধানসভাতেও আসবেন না, কেঁদে ফেললেন হুমায়ুন কবীর
সংবাদদাতা, কলকাতা: কেঁদে ফেললেন হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার তাঁর জেতা আসন রেজিনগরে উপনির্বাচনে প্রার্থী ছিল তাঁরই ছেলে গুলাম নবি আজাদ। কিন্তু ফল ঘোষণার আগেই হার মেনে নিলেন নওদার বিধায়ক ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান। ভোটের নামে “প্রহসন” হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। সঙ্গে জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী যত দিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, তত দিন বিধানসভায় পা রাখবেন না।
হুমায়ুনের দাবি, রেজিনগরে বিপুল ভোটে জিতবে বিজেপি, কিন্তু সেটা জনমত নয়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনকে দিয়ে ভোট চুরি করেছে শাসকদল। সেই অভিমানেই বিধানসভার চৌকাঠ মাড়াবেন না বলে জানান তিনি। এই কঠিন সিদ্ধান্তের জন্য নওদার সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন। হুমায়ুনের কথায়, “রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেব। এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।” তবে একটি প্রতিশ্রুতি থেকে সরছেন না তিনি। হুমায়ুন জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তিনি বানাবেনই। নওদার মানুষের স্বার্থে এলাকার সমস্ত পরিষেবাও সচল রাখবেন, জানান তিনি। কিন্তু বিধানসভার কোনও কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।
#WATCH | Murshidabad, West Bengal: Aam Janata Unnayan Party (AJUP) leader Humayun Kabir says, “The police forcibly detained me for 12 hours by telling lies.” https://t.co/11ZCxb2lvV
— ANI (@ANI) October 7, 2026
মঙ্গলবার রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন সকালেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন হুমায়ুন। ১২ ঘণ্টা পর মুক্তি পান তিনি। তাঁর ছেড়ে দেওয়া এই আসনে দলের প্রার্থী তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ। অভিযোগ ওঠে, ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে পুলিশের উদ্দেশে “অশালীন মন্তব্য” করেছেন হুমায়ুন এবং ভোটারদের উস্কানি দিয়েছেন ও প্রভাবিত করেছেন। এর পরই তাঁকে আটক করা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর, সন্ধ্যায় তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
বুধবার সেই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “যে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বিনা কারণে একজন সাব-ইনস্পেক্টর পদে থাকা পুলিশ নির্বাচিত বিধায়ককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। এই পুলিশমন্ত্রীকেও আমি এড়িয়ে চলব।” ভোট মিটতে না মিটতেই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটলুটের অভিযোগ তুলেছিলেন হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবিও। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল কী হবে, তা ভোটের দিনেই পরিষ্কার।
