হুগলিতে ‘আক্রান্ত’ বিজেপি নেতা, পিছনে কি দলের একাংশ ? থানায় অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদন : তিন মাসের নতুন সরকার।
এর মধ্যেই রাজ্য রাজনীতির বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের অন্দরমহলে মাথাচাড়া দিচ্ছে তীব্র গোষ্ঠীকোন্দল— এমনটাই অভিযোগ উঠছিল বিভিন্ন শিবির থেকে। সম্প্রতি এই ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শৃঙ্খলাভঙ্গ নিয়ে দলকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের সেই হুঁশিয়ারি ও সতর্কবার্তার পরও যে নিচুতলার ছবিতে বিশেষ বদল হয়নি, হুগলির তারকেশ্বরের সাম্প্রতিক ঘটনা যেন সে কথাই নতুন করে প্রমাণ করল। দলেরই এক প্রভাবশালী নেতার বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রী ও নাবালক সন্তানকে বেধড়ক মারধরের মারাত্মক অভিযোগ উঠল বিজেপিরই একাংশের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙা কলেজ রোড স্কুলপাড়া এলাকায়। আক্রান্ত নেতা হলেন বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে তাঁদের বাড়িতে আচমকাই ঢুকে পড়ে কয়েকজন চেনা-পরিচিত মুখ। ঘরে ঢুকেই তাণ্ডব চালাতে শুরু করে তারা। গণেশের দাবি, দুষ্কৃতীরা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ঘরের সমস্ত আলো নিবিয়ে দিয়ে তাঁর স্ত্রী ও নাবালক পুত্রের ওপর চড়াও হয় এবং অমানবিক মারধর করে।
এই হামলায় রক্তাক্ত হন গণেশ চক্রবর্তীর স্ত্রী মিতা চক্রবর্তী ও তাঁর নাবালক সন্তান। উল্লেখ্য, মিতাদেবী নিজেও সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিজেপির তারকেশ্বর-৪ নম্বর মণ্ডলের সম্পাদক পদে রয়েছেন। দুষ্কৃতীদের মারে তাঁদের নাবালক ছেলের মাথা ফেটে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসার আগেই চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মিতাদেবী ও তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করে তারকেশ্বর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলে।
ঘটনার পর তারকেশ্বর থানার পুলিশের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপি নেতা গণেশ চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, এই হামলার পেছনে দলেরই একাংশ জড়িত। তাঁর অভিযোগের তীর তারকেশ্বরের প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডুর দিকে। গণেশবাবুর বক্তব্য, “উত্তম কুণ্ডুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগে আমি দীর্ঘদিন ধরে সরব হয়েছি। বিজেপিতে সম্প্রতি কয়েকজন নতুন মুখ এসেছে, তারাই মূলত এই হামলায় সক্রিয়ভাবে জড়িত।” এর পাশাপাশি তারকেশ্বরের স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পানের সঙ্গেও যে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়, সে কথা নিজেই স্বীকার করেছেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর সোজা কথা, “যারা আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই বিজেপির কর্মী-সমর্থক হিসেবে পরিচিত।”
এই ঘটনায় তারকেশ্বর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দলের একজন জেলা স্তরের সহ-সভাপতি এবং মণ্ডল সম্পাদকের বাড়িতে ঢুকে এই ধরনের তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় জেলা বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে এই তীব্র গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারকেশ্বরের স্থানীয় বা জেলা বিজেপি নেতৃত্বের কেউ-ই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে চাননি। গোটা বিষয়টি নিয়ে জেলা রাজনীতিতে অস্বস্তি তুঙ্গে পৌঁছেছে।
