কিং কোবরা নিয়ে কেরামতি, ছোবলে মৃত বৃদ্ধ
সংবাদদাতা, কালিম্পং: মত্ত অবস্থায় বিষধর কিং কোবরা নিয়ে কেরামতি দেখানোর মাশুল দিলেন এক প্রবীণ। সাপের বিষে মুহূর্তেই মৃত্যু হল তাঁর। উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলার নিমবং সংলগ্ন সন্ন্যাসী দাড়া এলাকার ঘটনা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, ওই বৃদ্ধ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিশালাকার কিং কোবরা দেখতে পান এবং আচমকাই সেটিকে খালি হাতে ধরে ফেলেন। অভিযোগ, ঘটনার সময় ওই ব্যক্তি মত্ত অবস্থায় ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাজ গোখরো প্রজাতির সাপটিকে হাতে উঁচিয়ে ধরে নানা ধরনের বিপজ্জনক কসরতও দেখাচ্ছিলেন বৃদ্ধ। উপস্থিত লোকজন তাঁকে বারণ করা সত্ত্বেও তিনি কথায় কান দেননি। এরমধ্যেই সাপটি তাঁর হাত থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। সাপটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বৃদ্ধ সেটিকে দ্বিতীয়বার ধরার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপরই সাপটি সোজাসুজি বৃদ্ধকে ছোবল মারে। ছোবল খাওয়ার পরও বৃদ্ধ সাপটিকে ছাড়েননি। বিষধরটিকে আঁকড়ে ধরেই তিনি রাস্তায় বসে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বিষের প্রভাব। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃদ্ধের শরীর অবশ হয়ে আসে, শুরু হয় যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্ট। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তার। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার খবর পেয়ে বন দপ্তরের কর্মীরা এসে রাজগোখরোটিকে উদ্ধার করেন। পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি বা জঙ্গল এলাকায় কিং কোবরার আনাগোনা অস্বাভাবিক নয়। তবে সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব এবং বিশেষ করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিষধর সাপের মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত মৃত্যুর সামিল। একটি কিং কোবরার ছোবলে যে পরিমাণ স্নায়ুঘাতক বিষ নির্গত হয়, তা কয়েক মিনিটের মধ্যেই একজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু ঘটাতে পারে। প্রশাসন জানিয়েছে, এই বিপর্যয় ফের একবার স্পষ্ট করে দিল যে বন্যপ্রাণী বা বিষধর সরীসৃপদের নিয়ে কেরামতি বা ছবি তোলার শখ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। বন দপ্তর ও পরিবেশপ্রেমীদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে । বলা হয়েছে, সাপ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে বা সেটিকে উত্যক্ত না করে দূরত্ব বজায় রাখুন এবং বন দপ্তর বা প্রশিক্ষিত স্থানীয় সাপ উদ্ধারকারীদের খবর দিন। সাপের কামড় খেলে তন্ত্রমন্ত্র বা ঝাড়ফুঁকের ওপর ভরসা না করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। জরুরি সাহায্যের প্রয়োজন থাকলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা বন দপ্তরের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
