বীরভূমে কয়লাখনি প্রকল্প নিয়ে স্মারকলিপি, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ কৃষকদের একাংশের
নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম: বীরভূমের লোবায় প্রস্তাবিত কয়লাখনি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত ও মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এল। স্থানীয় কৃষকদের একাংশ এবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের মূল অভিযোগ, প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনের আয়োজিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এলাকার প্রকৃত কৃষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং তাঁদের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এই ইস্যুতে সম্প্রতি বীরভূমের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার)-এর কাছে পৃথক স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন লোবার কয়েকজন কৃষক।
স্বচ্ছতা ও ন্যায্য মূল্যের দাবি কৃষকদের তরফে হীরালাল রানা জানান, তাঁরা শিল্প বা এলাকার উন্নয়নের বিরোধী নন। তবে কৃষকদের অন্ধকারে রেখে কোনো প্রকল্প রূপায়ণ করা মেনে নেওয়া হবে না। তাঁদের দাবি:
-
স্বচ্ছ আলোচনা: প্রস্তাবিত কয়লাখনি প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব, জমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের রূপরেখা নিয়ে প্রকৃত জমি মালিকদের সাথে সরাসরি কথা বলতে হবে।
-
ন্যায্য মূল্য ও ক্ষতিপূরণ: জমিমূল্যের উপযুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত দাম নিশ্চিত না করে এবং সব কৃষকের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনোভাবেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে না।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ দিন ধরেই বিভিন্ন জটিলতার কারণে লোবার এই কয়লাখনি প্রকল্পটি আটকে রয়েছে।
পাল্টা তোপ কৃষি জমি রক্ষা কমিটির। কৃষকদের এই পদক্ষেপকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কৃষি জমি রক্ষা কমিটির সম্পাদক জয়দীপ মজুমদার। তিনি কৃষকদের একাংশের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা আজ স্মারকলিপি জমা দিচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই এর আগের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ফলে “কৃষকদের ডাকা হয়নি”—এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।জয়দীপ মজুমদারের মতে, লোবায় কয়লাখনি চালু হলে এলাকায় বিপুল কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেই উন্নয়নকে থমকে দিতেই কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। একদিকে জমি, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার কৃষকদের একাংশ; অন্যদিকে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের পক্ষে সওয়াল করা স্থানীয় নেতৃত্ব। দুই বিপরীতমুখী অবস্থানকে কেন্দ্র করে লোবায় এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক পারদ চড়ছে। প্রশাসন এই স্মারকলিপির ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কোন্দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সব মহল।
