বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

রাজগঞ্জের নধাবাড়ির চা বাগানে হাতির মৃতদেহ, চাঞ্চল্য

02 October, 2026 3:37 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা,রাজগঞ্জ: সাতসকালে চা বাগানের নিস্তব্ধতা ভেঙে ছড়িয়ে পড়ল তীব্র চাঞ্চল্য। রাজগঞ্জ ব্লকের নধাবাড়ি এলাকার এক জঙ্গল সংলগ্ন চা বাগানে আচমকাই উদ্ধার হল একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃতদেহ। স্থানীয় বাসিন্দারা সকালে কাজের জন্য বেরিয়ে চা গাছের সারির মাঝে প্রকাণ্ড শরীরটিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।  কিছুক্ষণের মধ্যেই কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায় ঘটনাস্থলে।
খবর পাওয়ামাত্রই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এবং ভিড় সামলাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বেলাকোবা রেঞ্জের বনকর্মীদের একটি দল। পুরো এলাকাটি আপাতত বন দপ্তরের পক্ষ থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। কী কারণে এবং কীভাবে হাতিটির মৃত্যু হল, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় হাতিটির শরীরে বাহ্যিক কোনও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জঙ্গল ছেড়ে লোকালয় কিংবা চা বাগানে হাতি চলে আসার ঘটনা উত্তরবঙ্গে নতুন নয়। খাদ্য ও জলের খোঁজে প্রায়ই বুনো হাতির দল বৈকুন্ঠপুর জঙ্গল থেকে সংলগ্ন চা বাগান ও গ্রামগুলিতে হানা দেয়। তবে এভাবে আচমকা হাতির মৃত্যু পেছনে কোনও বিষক্রিয়া, তড়িতাহত হওয়া নাকি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা রয়েছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। ঘটনা প্রসঙ্গে বন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, খবর পাওয়া মাত্রই বেলাকোবা রেঞ্জের টিম সেখানে গিয়ে পৌঁছায়। এলাকাটি সুরক্ষিত করা হয়েছে যাতে কোনও তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না হয়। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ পরিষ্কার হবে। ভেটেরিনারি সার্জনদের খবর দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলটিতে কিছুদিন ধরেই  হাতি ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। চা বাগানের ভেতরে বিদ্যুতের তার ঝুলিয়ে রাখা বা কীটনাশক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলি অতীতে একাধিক হাতির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নধাবাড়ির এই ঘটনাতেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না পরিবেশপ্রেমীরা। বন দপ্তর জানিয়েছে, হাতির মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের রিপোর্টের পরই মৃত্যুর আসল কারণ প্রকাশ্যে আসবে। যদি এর পেছনে কোনও অস্বাভাবিকতা বা অসাধু চক্রের হাত থাকে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব  দিয়ে তদন্ত করে দেখছেন আধিকারিকরা।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik