৬৪৫ গ্রাম হেরোইন ও নগদ টাকা সহ ধৃত ২
সংবাদদাতা, নদীয়া: আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে নেশা মুক্তি ও অপরাধ দমনে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সেই অভিযানে গিয়েই নদীয়ার পলাশীপাড়া থানা পুলিশ পেল বিরাট সাফল্য। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হেরোইন এবং প্রচুর নগদ টাকা সহ আটক করা হল দু’জন মাদক পাচারকারীকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর আসে যে পলাশীপাড়া থানা এলাকার একটি অঞ্চলে একদল পাচারকারী বিপুল মাদক নিয়ে জমায়েত হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি বিশেষ দল এলাকায় হানা দেওয়া হয়। পুলিশের আচমকা হানায় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় দুই অভিযুক্ত। ধৃতদের তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় মোট ৬৪৫ গ্রাম উচ্চমানের হেরোইন এবং নগদ কয়েক হাজার টাকা। ধৃতদের নাম শাহাবাজ আলি ও জামদের আলি। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা। প্রাথমিক তল্লাশিতে ধৃতদের কাছ থেকে এত বিপুল পরিমাণ মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধার হতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় তদন্তকারী আধিকারিকদের। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্থানীয় স্তরে বিক্রির জন্য নয়, পুজোর মরশুমে এই বিশাল পরিমাণ মাদক অন্য কোথাও পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই মাদক কারবারের পেছনে কোনও বড়সড় আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শুক্রবার ধৃত দুই অভিযুক্তকে কড়া নিরাপত্তায় কৃষ্ণনগর জেলা ও দায়রা আদালতে তোলা হয়। তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে, উদ্ধার হওয়া নগদ টাকার উৎস খুঁজে বের করতে এবং এই চক্রের মূল পণ্ডাদের নাগাল পেতে আদালতের কাছে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। তদন্তকারীদের আশা, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদকের প্রধান উৎস ও এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত বাকি সদস্যদের নাম দ্রুত প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হবে। পুজোর আগে নেশা মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসনের এই অতি-সক্রিয়তা ও সাফল্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলা পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য, পুজোর মরশুমে অসাধু কার্যকলাপ বন্ধ করতে এবং জেলাকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরণের অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে।
