ঘন কুয়াশার চাদরে দুর্গাপুর, এনএইচ ১৯-এ ধীরগতিতে যানবাহন
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: শীত আসার আগেই অদ্ভুত আবহাওয়ার সাক্ষী শিল্প শহর দুর্গাপুর। আশ্বিনের শুরুতেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেল পুরো এলাকা। বিশেষ করে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের দৃশ্যমানতা কুয়াশার কারণে মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে গাড়িচালকরা। সাধারণত অগ্রহায়ণ বা পৌষ মাসে যে কুয়াশার দাপট দেখা যায়, তার আমেজ এখনই পেয়ে তাজ্জব বনে গেছেন পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে গাড়ির চালকরা। ভোর থেকে জাতীয় সড়কে কুয়াশার দাপট এতটাই বেশি ছিল যে কয়েক মিটার দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না। অসময়ের এই কুয়াশার কারণে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে জাতীয় সড়কে সমস্ত গাড়িতে হেডলাইট ও ফগ লাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতিতে চালকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জরুরি নির্দেশ ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কুয়াশার তীব্রতার কথা মাথায় রেখে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রিত রেখে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় ফগ লাইট এবং লো-বিম হেডলাইট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। হাই-বিম হেডলাইট জ্বালাতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ হাই-বিমের আলো ঘন কুয়াশায় প্রতিফলিত হয়ে চালকের চোখে ফিরে আসে, যা দৃশ্যমানতা বাড়ানোর বদলে আরও কমিয়ে দেয়। লেন পরিবর্তনের সময় অবশ্যই আগে থেকে ইন্ডিকেটর ব্যবহার করতে হবে। যদি দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে বা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করাতে হয়, তবে পেছনের যানবাহনকে সতর্ক করতে হ্যাজার্ড লাইট চালু রাখতে বলা হয়েছে। কুয়াশার সূক্ষ্ম জলবিন্দু গাড়ির সামনের কাচে জমে দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত করে। তাই অনবরত উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার ব্যবহার করে কাচ পরিষ্কার রাখা জরুরি। আবহাওয়া ও রাস্তার এই জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশের তরফ থেকেও বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে জাতীয় সড়কে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটে।
