জুবিনের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী, সোনাপুরে অনুরাগীদের ভিড়, ফের ন্যায়বিচারের দাবি
সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: এক বছর কেটে গেল। এই শূন্যস্থান মানতে পারছে না অসম। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চিরবিদায় নেন শিল্পী জুবিন গর্গ। শনিবার, তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গুয়াহাটির উপকণ্ঠে সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্রে জড়ো হলেন শত শত অনুরাগী। প্রিয় শিল্পীর জনপ্রিয় গান গেয়ে তাঁকে স্মরণ করলেন তাঁরা। পাশাপাশি, তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিও ওঠে।
এদিন সোনাপুরের অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে উপস্থিত ছিলেন অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএএসইউ)-এর সদস্যরা। জুবিনের পরিবারের লোকজন, অনুরাগী ও শিল্পীরা। গান ও শ্রদ্ধার্ঘের মাধ্যমে সঙ্গীতশিল্পীকে স্মরণ করা হয়।
এএএসইউ-এর প্রধান উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বলেন, তাঁরা সবাই তাঁদের প্রিয় শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। জুবিনের মৃত্যু নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, সেই আকস্মিক ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গিয়েছে, জুবিনকে ন্যায়বিচার পেতেই হবে।
আরও পড়ুন: অস্কার-এ ভারতের অফিসিয়াল এন্ট্রি হিসেবে মনোনীত মারাঠি ছবি ‘গোন্ধল’
সংগঠনের সভাপতি উৎপল শর্মা জুবিনের শিল্পীসত্তা ও মানবিক কাজের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অসম জুড়ে জুবিনের সৃষ্টিকে উদ্যাপন করা হবে। আগামী প্রজন্মের কাছে জুবিনের অবদান পৌঁছে দেওয়ার উপরও জোর দেন তিনি। উৎপল স্মরণ করিয়ে দেন, অসমে যখন অবৈধ গন্ডার শিকার চলছিল, তখন নিজের বিহু মঞ্চকে প্রতিবাদের মঞ্চে পরিণত করেছিলেন জুবিন। কোভিডের মাঝামাঝি সময়ে, যখন মানুষ বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছিলেন, তখন নিজের একটি বাড়ি আইসোলেশন কেন্দ্র তৈরির জন্য দিয়েছিলেন তিনি।
জুবিনকে স্মরণ করতে অসম সরকারের সাংস্কৃতিক বিষয়ক দফতরের উদ্যোগে তিন দিনের অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠান শনিবার শেষ হচ্ছে।
এক কিংবদন্তির কর্মজীবন
সিঙ্গাপুরে মৃত্যু হয় জুবিনের। ঘটনার পরদিন ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল’-এ তাঁর অনুষ্ঠান করার কথা ছিল। গায়ক, সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক ভাষায় হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি ছবি ‘গ্যাংস্টার’-এর ‘ইয়া অলী’ গানটির হাত ধরে অসমের বাইরেও ব্যাপক পরিচিতি পান জুবিন। ওই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ইমরান হাশমি ও কঙ্গনা রানাউত।
তবে গোটা কর্মজীবন জুড়েই অসমের সঙ্গীত ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড় যোগ ছিল তাঁর। ঐতিহ্যবাহী অসমিয়া সুরের সঙ্গে আধুনিক সঙ্গীতের মেলবন্ধন ঘটেছিল তাঁর গানে। উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
