জমির সরকারি নথি মালিকের হাতে, তবুও খেলার মাঠ দখলের অভিযোগ!
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: একদিকে জমির বৈধ মালিকানার সরকারি নথি, অন্যদিকে বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ বাঁচানোর আবেগ এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বুধবার কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তর চত্বর। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের খয়রাশোল এলাকার একটি জমিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ঘটনার সূত্রপাত খয়রাশোল এলাকার একটি নির্দিষ্ট জমিকে কেন্দ্র করে। জমিটির দাবিদার তরুণ কুমার দাসের বক্তব্য জমিটির সমস্ত বৈধ কাগজপত্র এবং সরকারি রেকর্ড তাঁদের পরিবার তথা তাঁদের নামেই নথিভুক্ত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা নিয়ম মেনে খাজনা ও ট্যাক্স মিটিয়ে আসছেন।সরকারি রেকর্ডে জমিটি স্পষ্টতই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হিসেবে লেখা রয়েছে। আমরা সেখানে অন্যায় কিছু করছি না। সমস্ত আইনি নথিপত্র প্রশাসনের সামনে পেশ করতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু তা সত্ত্বেও এলাকার কিছু মানুষ জোর করে জমিটি দখল করে রাখার চেষ্টা করছেন এবং আমাদের কাজে বাধা দিচ্ছেন। তিনি চান, প্রশাসন নথি পরীক্ষা করে তাঁদের আইনানুগ অধিকার ফিরিয়ে দিক। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী বাসিন্দাদের সুর সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, কাগজপত্রে যা-ই থাকুক না কেন, বিগত কয়েক দশক ধরে খয়রাশোল এলাকার এই জমিটিই একমাত্র খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এলাকার শিশু কিশোর থেকে শুরু করে যুবসমাজ সবার খেলাধুলোর একমাত্র ঠিকানা এই প্রাঙ্গণ। শুধু খেলাধুলোই নয়, বিকেল হলেই প্রবীণ নাগরিকরা এখানে একটু হাঁটাচলা ও সময় কাটানোর সুযোগ পান। ফলে এলাকার সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জমিটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, জমিটিতে কোনো বাণিজ্যিক বা আবাসনমূলক নির্মাণকাজ শুরু হলে এলাকার একমাত্র খোলা জায়গাটি চিরতরে হারিয়ে যাবে, যা শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বুধবার সকালে খয়রাশোলের শতাধিক বাসিন্দা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে জড়ো হন। তাঁরা সেখানে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা জানান, তাঁরা উন্নয়নের বিরোধী নন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই একমাত্র খেলার মাঠটি হাতছাড়া হতে দেবেন না। এরপর মহকুমা শাসকের দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিকের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, জমির বর্তমান রেকর্ড ও অতীত ব্যবহার খতিয়ে দেখে দ্রুত উপযুক্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে এবং জমির সব নথি খতিয়ে দেখা হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে এবং আইনি দিক বিচার করে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই আশ্বাসে সাময়িক বিক্ষোভ স্থগিত হলেও মাঠ রক্ষার দাবিতে নিজেদের অবস্থানে অনড় স্থানীয় বাসিন্দারা।
