এবার পুজোয় বাংলা ছবির চতুর্মুখী লড়াই, বাজি জিতবে কে?
পুজোয় মুক্তি পাচ্ছে মোট চারটি ছবি। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে লিখেছেন—
মধুমন্তী বসু
দুর্গাপুজো মানেই বাংলা ছবি। সেই কবে থেকে এটা চলে আসছে, কেউ সঠিকভাবে বলতে পারেন না। তবে এখন তো পুজোর ছবি মানে আলাদা একটা লড়াই, বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা। এ বছর পুজোয় মুক্তি পাচ্ছে চারটি ছবি। অবশ্য প্রতিটি ছবির মেজাজ ভিন্ন। এই মহাদৌড়ে কে যে কোথায় থাকবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’, ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’, ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ এবং ‘দেশু7’। এই চারটি ছবিরই লক্ষ্য পুজোর দর্শক টানা। ‘বহুরূপী’ এবং ‘দ্য একেন’ দাঁড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজির উপর; ‘দেশু7’ নির্ভর করছে তারকা ও জুটির নস্ট্যালজিয়ার উপর; আর ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবির প্রেক্ষাপট হল সাহিত্য, ইতিহাস ও ঔপনিবেশিক সময়।
‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’-র ক্ষেত্রে আগের ছবির সাফল্যটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ২০২৪-এ ‘বহুরূপী’-র পর একই জগতের গল্পকে আরও বড় পরিসরে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বিক্রম প্রামাণিক ও ঝিমলি —এই পরিচিত চরিত্রগুলিই প্রাথমিকভাবে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করছে। অর্থাৎ নতুন করে একটি ব্র্যান্ড তৈরি করার খরচ এখানে নেই; প্রথম ছবির দর্শকই দ্বিতীয় ছবির সম্ভাব্য বাজারের একটি অংশ। ছবিটি ১৫ অক্টোবর মুক্তির তালিকায় রয়েছে।
একই যুক্তি কাজ করছে ‘দ্য একেন’-র ক্ষেত্রেও। একেনবাবু ইতিমধ্যেই বাংলা সিনেমার পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি। নতুন ছবিতে লোকেশন বদলে কেরল হলেও কেন্দ্রে থাকছেন সেই একেনবাবুই। ফলে ছবির ইউএসপি নতুন নয়, বরং পরিচিত চরিত্রকে নতুন পরিস্থিতিতে পাঠানো।
দেবের ‘দেশু7’-এর সমীকরণ অন্যরকম। দেব নিজেই ছবিটির পরিচালক। সঙ্গে রয়েছেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। বহু বছর পর এই জুটিকে একসঙ্গে পর্দায় ফেরানো ছবির প্রচারের অন্যতম কেন্দ্রীয় উপাদান। ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্য সহ একাধিক পরিচিত মুখও রয়েছেন। ১৬ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে।
এখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি নেই, কিন্তু আছে স্টার ইক্যুইটি এবং জুটির নস্ট্যালজিয়া। ফলে ছবিটির বক্স অফিস সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে প্রথম কয়েক দিনের দর্শক-আগ্রহ এবং প্রচার কতটা ‘ইভেন্ট’ তৈরি করতে পারে তার উপর। অন্যদিকে, দেবের পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশও ছবির প্রচারে আলাদা একটি গল্প তৈরি করছে। অর্থাৎ ‘দেশু7’ শুধু অভিনেতা দেবের ছবি নয়, পরিচালক দেবকেও বাজারে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে।
তবে সবথেকে অন্যরকমের বাজি হল ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের এই ছবিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ নিষিদ্ধ হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে অবলম্বন করে তৈরি হয়েছে। শরৎচন্দ্রের ভূমিকায় টোটা রায়চৌধুরী আর আবির চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রে। ছবির মুক্তি ১৬ অক্টোবর।
এখানে সিনেমার প্রধান ‘ব্র্যান্ড’ কোনও তারকা নন। মূল আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারেন শরৎচন্দ্র এবং ‘পথের দাবী’। এটাই ছবিটির সম্ভাব্য শক্তি, আবার বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জও। পুজোর দর্শকের একটা অংশ যেখানে সরাসরি বিনোদন, রহস্য বা তারকা-নির্ভর ছবির দিকে যেতে পারেন, সেখানে এই ছবি দর্শককে সাহিত্য ও ইতিহাসের ভিতর দিয়ে হলে নিয়ে যেতে চাইছে।
চারটি ছবির দিকে তাকালে একটা বিষয় স্পষ্ট— এবারের পুজোর লড়াইকে সরলীকৃত করা যাবে না। অর্থাৎ কে জিতে যাবে, তা বলা একরকম অসম্ভব। কারণ চার ছবির প্রাথমিক আকর্ষণ চার রকম। ফলে পুজোর বক্স অফিসে এবারও বজায় থাকবে টানটান প্রতিযোগিতা।
তবে আসল পরীক্ষা তিন জায়গায়। ট্রেলার ও প্রচার, প্রথম কয়েক দিনের হল অকুপেন্সি এবং দর্শকের মুখে-মুখে প্রচার। পুজোর বাজারে প্রাথমিক তারকা-আকর্ষণ দ্রুত তৈরি হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ দৌড়ে ছবির কনটেন্টই কতটা দর্শক ধরে রাখে, সেটাই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অর্থাৎ এ বছরের পুজোর বক্স অফিসকে শুধু ‘তারকার লড়াই’ বললে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
