ইংল্যান্ডের কাছে মুখ থুবড়ে পড়ল! পাকিস্তান ম্যাচ এখন বাঁচা-মরার লড়াই হরমনপ্রীতদের
আমস্টেলভিন: শুরুতেই ধাক্কা। তারপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই ধরে রাখতে পারল না ভারত। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল হরমনপ্রীত সিংয়ের দল। মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের মঞ্চে ৩২ বছরের অপেক্ষা বুঝি শেষ হতে চলেছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটাই পুরো বদলে গেল। পরপর তিন গোল করে ম্যাচ নিজেদের দখলে নিয়ে নিল ইংল্যান্ড। হকি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে ২-৪ গোলে হার ভারতের।
আমস্টেলভিনের ওয়াগেনার স্টেডিয়ামে ভারত শুরুটা খারাপ করেনি। কিন্তু প্রথম কোয়ার্টারের শেষ দিকে নিকোলাস বান্দুরাকের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। সেই গোলের পর অবশ্য ভেঙে পড়েনি ভারত। বরং দ্রুত ম্যাচে ফেরে তারা। ১৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে হরমনপ্রীত সিংয়ের নিখুঁত ড্র্যাগ-ফ্লিকে সমতা ফেরে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরও একবার ইংল্যান্ডের রক্ষণে আঘাত করে ভারত। ২৫ মিনিটে দিলপ্রীত সিংয়ের গোলে ২-১ এগিয়ে যায় তারা। বিরতিতে সেই ব্যবধান নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।
তারপরই শুরু ভারতের দুঃস্বপ্ন। তৃতীয় কোয়ার্টারে ইংল্যান্ডের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। ভারতের রক্ষণকে বারবার পরীক্ষার মুখে ফেলছিল তারা। ৩৯ মিনিটে স্টুয়ার্ট রাশমেয়ারের গোলে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। কয়েক মিনিট পরেই ফের ধাক্কা। ৪৩ মিনিটে হেনরি ক্রফটের গোলে ৩-২ এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় ভারতের হাত থেকে।
শেষ কোয়ার্টারে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেছিল ভারত। কিন্তু ইংল্যান্ডের রক্ষণে সেই ফাঁক আর তৈরি করা গেল না। উল্টে ৫৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন বান্দুরাক। ৪-২। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সময়ই ছিল না ভারতের হাতে।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারত ৫১ শতাংশ বলের দখল রেখেছিল এবং গোলমুখে শটও নিয়েছিল ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশি—১১টি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি দরকার, সেই ফিনিশিং এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটাই ছিল ইংল্যান্ডের হাতে।
এই হারের সঙ্গে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হল। বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডকে ভারত শেষবার হারিয়েছিল ১৯৯৪ সালে। অর্থাৎ ৩২ বছর পরও সেই অপেক্ষা শেষ হল না।
আর এখন সামনে পাকিস্তান। ১৯ অগস্টের সেই ম্যাচটাই ভারতের কাছে কার্যত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে আর ভুলের জায়গা নেই। পাকিস্তানকে হারাতে হবে পরের রাউন্ডের জমি শক্ত করতে। হারলেই বিশ্বকাপ অভিযান থমকে যাওয়ার আশঙ্কা।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত দেখাল, ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আছে। কিন্তু ২-১ থেকে ম্যাচ জেতার ক্ষমতা দেখাতে পারল না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এবার শুধু ঘুরে দাঁড়ালেই হবে না—শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
