অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পুরসভা ও পুলিশের হানা, ধস্তাধস্তি, ভাঙা হল পার্টির সাইনবোর্ড
নিজস্ব প্রতিবেদন: তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে সাইনবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিষেক ও দলের কর্মীদের বাধাদানকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। পুলিস অভিষেকের অফিসের ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং বিলবোর্ড খোলার জন্য বাড়ির ছাদে ওঠার চেষ্টা করে।
সেই সময় অফিসের কর্মী ও নিরাপত্তা রক্ষীরা বাধা দেন। হেলমেট পরা পুলিশ দল সব বাধা সরিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে দু’পক্ষে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। সেই সময় তৃণমূল এমপি ডেরেক ও’ব্রায়েন সিঁড়িতে শুয়ে পড়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুলিশের সহায়তায় পুরসভার কর্মীরা ছাদে উঠে বিলবোর্ড খুলে ফেলতে সক্ষম হন। পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে গিয়েছে।
ঘটনার হঠাৎ শুরু বৃহস্পতিবার বিকেলে। কলকাতা পুরসভা ও শেক্সপিয়র থানার পুলিশের একটি দল হঠাৎই অভিযান চালায় তৃণমূলের এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে। পুরসভার অফিসারদের সঙ্গে ছিল একটি নোটিস ও গ্যাস কাটার। অভিষেকের অফিসের সাইনবোর্ড ও ‘বেআইনি’ বিলবোর্ড খোলার নোটিস নিয়ে তারা হাজির হলে উত্তেজনা ছড়ায়।
পুরসভার কর্মীদের বিলবোর্ড খোলার কাজে বাধা দেন তৃণমূল নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। এই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে অফিস থেকে নীচে নেমে আসেন এবং সেই নোটিসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পুরসভার আধিকারিকরা তাঁকে বলেন, ‘ওই বিলবোর্ড অবৈধ’। সে কথা অবশ্য মানতে চাননি অভিষেক।
এই নিয়ে পুর অফিসারদের সঙ্গে তাঁর অনেকক্ষণ ধরে বচসাও হয়। তিনি পুরকর্মীদের বলেন, ‘এই রাস্তার ওপর এত বিলবোর্ড রয়েছে, কেন সেগুলো খোলা হবে না? আমরা এই গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাব।’ এরপর ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। গায়ের জোরে তৃণমূলের অফিস তুলে দিতে চাইছে।
ওদের এত ভয় কীসের ?
মিটিং মিছিল করতে দেবে না, পার্টি অফিস ভেঙে দেবে, বিলবোর্ড ভেঙে দেবে। বিরোধীরা যেন মাথায় রাখেন তৃণমূলকে শেষ করা যাবে না। আমাদের ঘাসফুল যত কাটবে, তত বেড়ে উঠবে।’
পুলিশ অভিষেকের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ও কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ এনেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে মহিলাদের আক্রমণ ও হেনস্তার অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এদিন বিকেলেই এ বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে।
