অন্ডালে শারদোৎসবের আবহে বামেদের ভ্রাম্যমাণ বুক স্টল
সংবাদদাতা, আন্ডাল: শারদোৎসবের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বামেদের বই বিক্রি এবং বুক স্টল কেন্দ্র করে। একদিকে যখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে ঐতিহ্যবাহী বুক স্টলগুলি, ঠিক তখনই অভিনব কায়দায় প্রচার চালিয়ে তাক লাগাল সিপিএম।
পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থেকে শনিবার একটি টোটোয় বই বোঝাই করে অভিনব কায়দায় ‘ভ্রাম্যমাণ মার্কসবাদী ও প্রগতিশীল বুক স্টল’ চালু করা হয়। মাইক্রোফোন হাতে প্রচার চালান সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়। রাজশেখর বসুর ‘হনুমানের স্বপ্ন’, ম্যাক্সিম গোর্কি, রাহুল সাংস্কৃত্যায়ন থেকে শুরু করে মার্কস-লেনিনের রচনাবলী বিক্রির এই কৌশল দারুণ সাড়া ফেলে। মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়, যার মধ্যে ৫০ কপি ‘হনুমানের স্বপ্ন’ বইটির সবকটিই শেষ হয়ে যায়।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কটাক্ষ। বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসু মন্তব্য করেছেন, ধর্মকে একসময় আফিম বললেও এখন বামেদের বুক বিক্রির জন্য বজরংবলীর শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজ্যজুড়ে শারদোৎসবের বুক স্টল করা নিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ও রাজ্য প্রশাসনের সংঘাত চরমে। কলকাতা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে বাম দলগুলির স্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। যাদবপুরের ৮বি বাস স্ট্যান্ডের কাছে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ পে–লোডারের সাহায্যে সিপিএমের স্টল সরাতে গেলে তীব্র বচসা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন যে, বামেদের বুক স্টলে হামলার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনো যোগ নেই এবং শাসকদলের নাম ব্যবহার করে এমন ঘটনা ঘটলে দলমত নির্বিশেষে প্রতিবাদ হওয়া উচিত। তবে সার্বিক এই পরিস্থিতিতে বই বিক্রিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েই চলেছে।
