তৃণমূলের প্রতীক পুড়িয়ে বিজেপির প্রতীকী ‘শ্রাদ্ধ শান্তি’
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ ও আক্রমণ শানাতে এক নজিরবিহীন ও অভিনব কর্মসূচি পালন করল বিজেপি। শনিবার সকালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকায় আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ এডিডিএ-এর ভবনের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকী ‘শ্রাদ্ধ শান্তি’ অনুষ্ঠান আয়োজন করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা। ঘটনার শুরুতেই ‘বল হরি, হরি বোল’ ধ্বনি তুলে সিটি সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বসে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
রীতিমতো পুরোহিত এনে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এই প্রতীকী আচার সম্পন্ন করা হয়। শ্রাদ্ধের স্থানটিতে চাল, কলা, ডিম, বালি এবং কয়লা সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর পুরোহিতের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক আগুনে ভস্মীভূত করা হয় এবং প্রতীকীভাবে দলের ‘শেষকৃত্য’ ও ‘শ্রাদ্ধশান্তি’ পালন করা হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের দীর্ঘদিন ধরে করে আসা নানা দুর্নীতি ও অনিয়মকে প্রতীকী আকারে তুলে ধরতেই এই বিশেষ সামগ্রীগুলি ব্যবহার করা হয়েছে।
দলের তরফে জানানো হয়, কয়লা ও বালি পাচার এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করতেই শ্রাদ্ধের উপকরণে এগুলি রাখা হয়েছিল। জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল এই জানান, “তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এখন বিলুপ্তির পথে, কিন্তু তারা প্রেতাত্মা হয়ে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। একসময় বালি, কয়লা থেকে শুরু করে শেষবেলায় প্রচুর ডিম খেয়েছে তারা। তাই সমস্ত নিয়ম মেনে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান করে আমরা তৃণমূলকে শেষ বিদায় জানালাম এবং রাজনীতি থেকে তাদের বিসর্জনের ব্যবস্থা করলাম।” বিজেপির বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল রাজনৈতিক অস্তিত্ব শেষ হয়ে গিয়েছে এবং বঙ্গ রাজনীতি থেকে তাদের প্রতীক ও দলীয় সিম্বল চিরতরে মুছে যাওয়ার সময় এসেছে। দুর্গাপুরের কেন্দ্রস্থলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সিটি সেন্টারের জনবহুল এলাকায় এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কৌতূহলী জনতার ভীড় জমে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
