বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

পুলিশের চাকরির টোপ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, গ্রেপ্তার বিজেপি নেতার ভাইপো

25 September, 2026 4:29 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, রানাঘাট: পুলিশের চাকরির টোপ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ। তদন্তে নেমে রানাঘাট ও শান্তিপুর থানার যৌথ পুলিশ বাহিনীর অভিযানে মিলল নগদ টাকা এবং ব্যাঙ্কের পাসবুক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদীয়া জেলাজুড়ে। আর এই চক্রে শান্তিপুর বিধানসভার বিজেপি কনভেনার দীপক বিশ্বাসের ভাইপো মিন্টু বিশ্বাসের ।ঘটনার সূত্রপাত নদীয়ার রানাঘাট থানার অন্তর্গত চন্দ্রপুর এলাকায়। অভিযোগ, বন দপ্তর ও পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর পরিচয়ে এক মহিলার কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিন্টু বিশ্বাসের নামে।

শুধু ওই মহিলাই নন, অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ও সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একইভাবে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। অভিযোগকারী মহিলার দাবি, তিনি নিজে অনলাইন ট্রানজাকশনের মাধ্যমে ৪ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা এবং নগদ ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন মিন্টুর হাতে। অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে রানাঘাট থানার পুলিশ। দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত মিন্টু বিশ্বাসকে। এরপর তাকে পুলিশ হেপাজতে নিয়ে শুরু করে জিজ্ঞাসাবাদ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রানাঘাট ও শান্তিপুর থানার যৌথ দল অভিযুক্ত মিন্টু বিশ্বাসকে সাথে নিয়েই অভিযান চালায় বেলগড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনপাড়া এলাকায় তার বাড়িতে। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় নগদ প্রায় ২ লক্ষ টাকা এবং একটি ব্যাঙ্ক পাসবুক। এই পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন রানাঘাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আশিষ মৌর্য। সরকারি চাকরির নাম করে কীভাবে একটি বড়সড় প্রতারণা চক্র চালানো হচ্ছিল এবং ধৃতের কাছ থেকে কী কী প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানান এসপি।

এই ঘটনায় বিজেপি নেতার যোগসূত্র থাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। তবে ভাইপোর এই কুকীর্তি নিয়ে বিজেপি নেতা দীপক বিশ্বাস জানিয়েছেন, ভাইপোর সাথে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। গত এক মাস ধরে সে বাড়িতে ছিল। তাঁর বক্তব্য ভাইপো যা করেছে তা যেমন অনৈতিক, তেমনই যিনি চাকরির জন্য টাকা দিয়েছেন তিনিও অনৈতিক কাজ করেছেন। নিজের ভাইপো হলেও বলব, প্রশাসন আইনের পথে চলুক। ফাঁসি কিংবা এনকাউন্টার হলেও আমার কোনও আপত্তি নেই। তবে বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে বিজেপি নেতার দাবি, সেই টাকা তিনি গোল্ড লোন হিসেবে ব্যাঙ্ক থেকে নিয়েছিলেন এবং তার সমস্ত উপযুক্ত প্রমাণ ও হিসাব তিনি পুলিশের কাছে জমা দেবেন। অন্যদিকে, টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিন্টু বিশ্বাস কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল এবং এর আগেও নানা অসামাজিক ও প্রতারণামূলক কাজে তার নাম জড়িয়েছিল।কারা এই প্রতারণা চক্রে যোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রতিবেদন

UTSAB RC