অস্থায়ী কম্পিউটার শিক্ষকদের বিকাশ ভবন অভিযান
সংবাদদাতা, কলকাতা : পুজোর মুখে অনিশ্চিত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। এজেন্সির টেন্ডার শেষ হওয়ার অজুহাতে হুট করে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিকাশ ভবন অভিযানে নামলেন ৬ ও ৭ ফেজের আইসিটি শিক্ষকেরা। পুজোর ঠিক আগে চাকরি হারিয়ে দিশেহারা কম্পিউটার শিক্ষকরা। আইসিটি ঐক্য মঞ্চের ছাতার তলায় আন্দোলনে নেমেছেন এই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। অভিযোগকারী শিক্ষকদের বক্তব্য, সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে পড়ুয়াদের প্রযুক্তি ও কম্পিউটারে দক্ষ করে তোলার জন্য তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট এজেন্সির টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা জানিয়ে বহাল থাকা শিক্ষকদের মেয়াদও শেষ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে থেকে কোনও নোটিস ছাড়াই উৎসবের মুখে এই ধরনের সিদ্ধান্তে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন শিক্ষকেরা। অবিলম্বে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং চাকরির স্থায়িত্ব সুনিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা পথে নেমেছেন। আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভের অন্যতম কারণ হল ফেজ অনুযায়ী বৈষম্য। প্রথম থেকে পঞ্চম ফেজে নিযুক্ত শিক্ষকেরা ইতিমধ্যেই সরকারের স্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁরা মাসে আনুমানিক ২৫,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছেন। কিন্তু ৬-৭ ফেজে নিযুক্তরা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কাজ করা সত্ত্বেও সেই শিক্ষকদের স্থায়ী করা হয়নি। তাঁরা এজেন্সির অধীনেই রয়ে গেছেন। এজেন্সির হাত ঘুরে আসায় ৬ ও ৭ ফেজের শিক্ষকেরা পান মাসে মাত্র ৬,০০০ টাকা থেকে ৮,০০০ টাকা। পাশাপাশি তাঁরা মাতৃত্বকালীন ছুটি বা অন্য কোনও জরুরি সরকারি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। একই পদে সমান দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও কেন এই দ্বিচারিতা? প্রশ্নই তুলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা। দাবি, এজেন্সির চুক্তি শেষ হলেও তাঁদের বিদ্যালয় থেকে সরানো যাবে না। ১ থেকে ৫ ফেজের মতো ৬ ও ৭ ফেজের শিক্ষকদেরও সরাসরি রাজ্য সরকারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। এই সমস্যার দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট সমাধান না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইসিটি ঐক্য মঞ্চ।
