মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠ নকল করে প্রতারণায় অভিযুক্ত অসমের আমলা
সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: বড়সড় অভিযোগ অসমের ধেমাজি জেলার ডেভেলপমেন্ট কমিশনার, ১৯৯৯ ব্যাচের অসম সিভিল সার্ভিসের অফিসার দেবেশ্বর বরার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, সরকারি চাকরির টোপ দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা তুলতেন তিনি। এজন্য ভাড়া করেছিলেন দক্ষ নকলনবিশও!
পুলিশ সূত্রের খবর, যে সব ব্যক্তিকে চাকরি পাইছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন দেবেশ্বর, তারা যাতে সহজেই চাকরি পাওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করেন, সে জন্য নকলনবিশকে দিয়ে কখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কণ্ঠ, আবার কখনও বা রাজ্যের মুখ্যসচিব রবি কোটার কণ্ঠ নকল করাতেন দেবেশ্বর। ফোনের ওপারে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলতেন নকল কণ্ঠের ব্যক্তিটি। এভাবে প্রার্থীদের কাছ থেকে আস্থা আদায় করতেন অভিযুক্ত। চাকরি কিংবা কোনও সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতাতেন বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দেবেশ্বর প্রার্থীদের বলতেন মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে যথেষ্টই দহরম মহরম রয়েছে তাঁর। এ ছাড়াও রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে তাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেবেন। এর পরবর্তী ধাপে মাঠে নামানো হতো নকলনবিশে দক্ষ ব্যক্তিটিকে। তিনি কখনও নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী, কখনও মুখ্যসচিব, কখনও কোনও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্তা পরিচয় দিয়ে ফোনে কথা বলতেন।
সম্প্রতি এক চিকিৎসক দেবেশ্বর বরার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নামে ভিজিল্যান্স। তখনই অভিযুক্তের আয়বহির্ভুত বিপুল সম্পত্তির সন্ধান মেলে। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় দেবেশ্বরকে।
জানা গেছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের সচিব পদে ছিলেন দেবেশ্বর বরা। তখনও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তার আগে ২০২০ সালে কোকরাঝাড়ের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবার চিকিৎসক একাই নন, ধেমাজি জেলার এক নেতাও দেবেশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন।
