ঐতিহ্য ও বিজ্ঞানের অভিনব মেলবন্ধন নিউটাউনের দুর্গাপুজোয়
সংবাদদাতা, নিউটাউন: বাঙালির সনাতন ঐতিহ্য ও আধুনিক বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব সংযোগের সাক্ষী হতে চলেছে নিউটাউন। আবহমানকালের পুজো সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির যুগলবন্দি ঘটিয়ে এবার এক অভিনব দুর্গাপুজোর আয়োজন করছেন নিউটাউনের ‘সনাতনী দুর্গাপুজো’ কমিটির উদ্যোক্তারা। তাদের মণ্ডপ ও ভাবনায় শুধুই আচার-অনুষ্ঠান বা পৌরাণিক গল্প নয়, বরং বিজ্ঞানের নানাবিধ দৃষ্টিভঙ্গিকে কাজে লাগিয়ে ফুটে উঠবে সনাতন দর্শনের গভীরতা। প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জার মূল থিমে প্রবেশের আগেই দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বিজ্ঞানের এক বিশেষ ও অভিনব উপস্থাপনা। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই বিশেষ থিমটি কেবল একটি দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম নয়, বরং মানুষের মনে প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞান ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক ভাবনার যোগসূত্র তুলে ধরার প্রচেষ্টা। সোমবার ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার আঞ্চলিক ডিরেক্টরের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীটির সূচনা করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ একটি বিশেষভাবে তৈরি হাই-টেক গাড়ি, যাকে কেন্দ্র করেই এই প্রদর্শনীর প্রাথমিক ঝলক সাধারণ মানুষের সামনে আনা হয়। পরবর্তী ধাপে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন রাজ্য বিজ্ঞান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও প্রশাসনিক কর্তাদের এই উপস্থিতি পুজো উদ্যোক্তাদের মূল ভাবনাকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে সনাতনী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যেতে পারে তা হাতে-কলমে দেখানোই এই প্রদর্শনী ও থিমের মূল উদ্দেশ্য। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, সনাতন ধর্ম ও ভাবনার পেছনে সবসময়ই গভীর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেই সত্যকেই নতুন প্রজন্মের সামনে সহজভাবে তুলে ধরা হবে। দুর্গাপুজোর আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি পরিবেশ ও মহাকাশ বিজ্ঞান এবং প্রকৃতির বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক নিয়ম কীভাবে ভারতীয় দর্শনে প্রতিফলিত হয়েছে, তাও প্রদর্শনী এবং থিমসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। পুজোর প্রতিযোগিতায় প্রতি বছরই নতুন নতুন থিমের আড়ালে উঠে আসে শিল্প ও সামাজিক নানা বার্তা। তবে পুজো মণ্ডপে মহাকাশ গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির এরকম প্রত্যক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি বেশ বিরল। ফলে সাধারণ পুজোপ্রেমী থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী সকলের মধ্যেই এখন থেকেই প্রবল কৌতুহল এই মণ্ডপসজ্জা ঘিরে। নিউটাউনের মতো আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর শহরে এই ধরনের বিজ্ঞান ও সনাতনের মেলবন্ধন এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন শহরবাসী।
