থানায় হাজিরা হুমায়ুনের, করবেন না ভোট প্রচার
সংবাদদাতা, বহরমপুর: বিতর্কিত অডিও কাণ্ডে সোমবার সকালে বহরমপুর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ থানায় গিয়ে পৌঁছোন তিনি। তারপর থেকে টানা চারঘণ্টা নওদার বিধায়ককে জেরা করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তাঁর কাছে বিতর্কিত অডিও–তে তাঁর কণ্ঠস্বরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
রেজিনগর উপ নির্বাচনের আগে একটি অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে উসকে ওঠে বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে দুজন ব্যক্তির কথোপকথন শোনা গিয়েছিল। যেখানে একজনকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘বাবরি মসজিদ চত্বরে সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে কয়েকটি বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হলে ভাল হয়। তাহলে গণ্ডগোল বেঁধে যাবে।’
পুলিশের বক্তব্য ছিল, ভাইরাল ওই অডিও–র দুজনের মধ্যে একজন ছিলেন সরফরাজ নামাজ চৌধুরি। যাকে নওদার টুঙ্গি গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির গলার স্বরের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের এক রাজনৈতিক নেতার কণ্ঠস্বরের মিল পাওয়া যায়। জানা যায়, সরফরাজ নামাজ চৌধুরিকে জেরা করে হুমায়ুন কবীরের নাম সামনে আসে। তারপরই শনিবার হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নোটিশ ধরায় পুলিশ।
এদিকে শনিবার রাতে রেজিনগর বিধানসভার শক্তিপুর এলাকার মিঞাগ্রাম থেকে নাসিম শেখ নামে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির এক নেতাকে পাকড়াও করে পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়। এই নিয়ে হুমায়ুন কবীরের দলের মোট চার জনকে গ্রেপ্তার করা হল। রবিবারই ধৃত নাসিমকে বহরমপুর জেলা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এরপরই পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান জানান, ইচ্ছে করে ভোটের আগে একে একে তাঁর দলের কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। সোমবার নির্বাচন কমিশনে এই অভিযোগের ভিত্তিতে চিঠিও দেন হুমায়ুন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বহরমপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারকে প্রভাবিত করছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রচার বন্ধ করতে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তাঁর প্রত্যক্ষ নির্দেশেই বিভিন্ন থানার আইসি ও ওসি–রা আমাদের রাজ্য ও ব্লক স্তরের নেতা–কর্মীদের মিথ্যে মামলায় জেলে ভরে রাখছেন।’
এদিকে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, দলের নেতা–কর্মীদের পুলিশ হয়রানি করছে এবং একের পর এক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি আর রাস্তায় নেমে প্রচার করবেন না। হুমায়ুন কবীর জানান, এই পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রচারে না গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। ফেসবুকের মাধ্যমে নিয়মিত এলাকার পরিস্থিতি এবং দলের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘টেবিল’ নিয়েও সামাজিক মাধ্যমেই প্রচার চালানো হবে।
