বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

কুখ্যাত অপরাধী আফতাবের সেলে বিপুল বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, টাকা

29 August, 2026 3:34 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ জেলের মধ্যেই বহালতবিয়তে ‘‌নেটওয়ার্ক’‌ চালিয়ে যাচ্ছিল কুখ্যাত অপরাধী আফতাব আনসারি!‌ তার সেল থেকে উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্র থেকে তেমনটাই ধারনা পুলিশের। প্রেসিডেন্সি জেলের হাই সিকিউরিটি জোনে থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আফতাবের সেল থেকে মিলল একাধিক দামী মোবাইল ফোন, আইফোন, ওয়াইফাই সংযোগকারী রাউটার, ১২৮ জিবির পেন ড্রাইভ, ওটিজি অ্যাডপ্টার, কার্ড রিডার, হটস্পটের জন্য ব্যবহৃত নানা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং পাঁচশো টাকার নোটে নগদ ৩১ হাজার টাকা!‌ ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার অন্যতম ‘‌মাস্টারমাইন্ড’‌ ‌আন্ডারগ্রাউন্ড ডন আফতাব ঘটনার পর দুবাই থেকে ফোন করে স্বীকার করেছিল তাঁর দলই ওই হামলা চালিয়েছে। নিজেকে জঙ্গি সংগঠন হরকত–উল–জেহাদির শীর্ষ কমান্ডার হিসাবে পরিচয় দিয়েছিল সে। এরপর ওই বছর ২৩ জানুয়ারি দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতে নিয়ে আসা হয়।
শুধু এটুকুই নয়, ২০০১ সালে দক্ষিণ কলকাতার তিলজলা এলাকা থেকে খাদিমকর্তা পার্থপ্রতিম রায়বর্মনকে অপহরণকাণ্ডের পেছনেও তার হাত ছিল বলে প্রমাণ পায় পুলিশ। নিম্ন আদালত আফতাবের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০০২ থেকেই কার্যত জেলে রয়েছে সে।
গত ২৩ আগস্ট সন্ধেয় প্রেসিডেন্সি জেলের মধ্যে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। একজন সিনিয়র আধিকারিকের উপস্থিতিতে জেল সুপরিন্টেন্ডেন্ট ও অন্য আধিকারিকরা এই রেড চালান। তখনই আফতাবের ১৪ নম্বর সেলের মধ্য থেকে এই সমস্ত বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। জেলের মধ্যে বসে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত সে, এই প্রশ্ন জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেল কর্তৃপক্ষের তরফে হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, জেলের ভেতর থেকেই আফতাব যে নিয়মিত মোবাইলে কথা বলত, এমন তথ্য গোয়েন্দারা আগেই পেয়েছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো অ্যাপের মাধ্যমে সে কারও সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত কি না, তা জানারও চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম সরবরাহে জেলের কোনও কর্মী যুক্ত আছেন কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও আফতাব আনসারির বিরুদ্ধে জেলের মধ্যে থেকে করাচিতে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছিল। ‌

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik