বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

কালীঘাটে হঠাৎ করে এনএসজি কেন ? কেন জোর নিরাপত্তায় ?

24 August, 2026 4:49 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান কালীঘাট মন্দিরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হল। সোমবার থেকেই মন্দির চত্বরে শুরু হয়েছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড বা এনএসজির বিশেষ নিরাপত্তা মহড়া ও রেইকি। ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত তিনদিন ধরে কালীঘাট মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখবে এনএসজি-র বিশেষ দল।

এনএসজির সঙ্গে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এসটিএফ এবং কলকাতা পুলিশের কমান্ডো ইউনিটের সদস্যরাও মহড়ায় অংশ নেন। এনএসজির দলে রয়েছেন একজন ইউনিট অফিসার, দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডার এবং ১০ জন কমান্ডো। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি মন্দির চত্বরের বিভিন্ন অংশের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা মহড়ার অংশ হিসেবে মন্দির এলাকায় থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহারের পাশাপাশি ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি ছবি সংগ্রহের কথাও জানা গিয়েছে। মন্দিরের প্রবেশপথ, দর্শনার্থীদের চলাচলের এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর। মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।

কালীঘাট মন্দিরে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়। বিশেষ তিথি ও উৎসবের সময় সেই ভিড় আরও বেড়ে যায়। ফলে এত বিপুল জনসমাগমের মধ্যে কোনও ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা খতিয়ে দেখাই এই ধরনের নিরাপত্তা অনুশীলনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই কালীঘাট মন্দিরের জন্য পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। মন্দির চত্বর, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত পুলিশ ফাঁড়িতে ২০ জন পুলিশকর্মী থাকার কথা, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার একজন আধিকারিক।

তবে কালীঘাট মন্দিরকে লক্ষ্য করে কোনও নির্দিষ্ট জঙ্গি সংগঠন বা কোনও নির্দিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে হামলার পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে—এমন কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। প্রশাসনিক সূত্রে বরং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিই সামনে এসেছে।

জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী হিসেবে এনএসজি সাধারণত গুরুতর সন্ত্রাসবাদী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে কালীঘাটে এনএসজির এই তিনদিনের রেইকি ও মহড়াকে মন্দিরের নিরাপত্তা পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee