ফের প্রশ্নের মুখে তারেকের ভারত সফর ?
নয়াদিল্লি / ঢাকা : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলে গত কয়েকদিন ধরে যে তীব্র জল্পনা চলছিল, নতুন এক প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিতে তা আরও জোরালো রূপ নিল। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে মনে করা হচ্ছিল, দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েন ভুলে হয়তো দিল্লি সফরে আসছেন ঢাকার নতুন রাষ্ট্রপ্রধান। কিন্তু শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে প্রকাশিত এক আকস্মিক নির্দেশিকা সেই সমস্ত জল্পনার মোড় ঘুড়িয়ে দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে প্রথমে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিশেষ ‘গার্ড অফ অনার’ ও সংশ্লিষ্ট কুচকাওয়াজের পূর্ণ মহড়া চালানো হবে। কিন্তু সেই নির্দেশিকা প্রকাশের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই আসে দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তি। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ২১ আগস্টের নির্দেশিকাটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে এবং শনিবার নির্ধারিত ‘গার্ড অফ অনার’ বা অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হচ্ছে না। রাষ্ট্রপতি ভবনের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বাতিলের পর কূটনৈতিক অভিজ্ঞদের একাংশের অভিমত, আপাতত স্থগিত বা বাতিল হয়ে গেল তারেক রহমানের বহুচর্চিত দিল্লি সফর।
এর আগে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিক এ কে এম শহিদুল করিম সাফ জানিয়েছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঢাকার তরফ থেকে স্পষ্ট শর্ত রাখা হয়েছিল যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই মূল অভিযুক্তকে দ্রুত ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে ভারতকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, বিগত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে আশ্রয়ে রয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালত তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। হাসিনা নিজে সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল বার্তা মারফৎ ডিসেম্বর মাসে স্বদেশে ফেরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। তবে ভারতের প্রশাসনিক সূত্র অনুসারে, হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেবে এ দেশের বিচার ব্যবস্থা।
হাসিনা ইস্যু এবং অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ নিয়ে তৈরি হওয়া এই কূটনৈতিক আইনি জটই শেষ পর্যন্ত দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সফর বাতিলের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
