দিল্লিতে ১,৭৭৭ আক্রান্ত, কলকাতার বাতাসেও কি সোয়াইন ফ্লুর হাতছানি ?
কলকাতা: রাজধানীতে একদিনেই ১১৪ জনের শরীরে ধরা পড়েছে H1N1, অর্থাৎ সোয়াইন ফ্লু। চলতি বছরে দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৭৭৭। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার জরুরি বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। দিল্লির এই উদ্বেগের মাঝেই কলকাতায় গত প্রায় দেড় মাস ধরে দাপট দেখাচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা। শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং আরজি কর-সহ একাধিক হাসপাতালের ল্যাবে মিলছে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, ইনফ্লুয়েঞ্জা বি এবং H1N1-এর রোগী।
তবে কলকাতায় এখনই সোয়াইন ফ্লু-র ‘আউটব্রেক’ হয়েছে বলা যাচ্ছে না। কারণ শহরভিত্তিক আক্রান্তের সরকারি পরিসংখ্যান এখনও সামনে আসেনি। তবে অগস্টের গোড়ায় চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, ইনফ্লুয়েঞ্জা বি এবং H1N1-এর রোগী তাঁরা পাচ্ছেন। কলকাতার একটি নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে এক মাসে ১০০-র বেশি সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছিল।
সব ইনফ্লুয়েঞ্জা এ কিন্তু সোয়াইন ফ্লু নয়। H1N1 হল ইনফ্লুয়েঞ্জা এ-র একটি সাবটাইপ। প্রকৃত ছবি বুঝতে তাই সবটাইপ টেস্টিং গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ H1N1 ও H3N2 শনাক্ত করার জন্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার Real-Time PCR এবং ভাইরাল আরএনএ এক্সট্রেকসন কিট কেনার টেন্ডার ডেকেছে।
উত্তর কলকাতার একটি সরকারি হস্টেলের ৩১ জন পড়ুয়া অসুস্থ হওয়ার পর ছ’জনের শরীরে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ধরা পড়েছিল। তাঁদের H1N1 আক্রান্ত বলা হয়নি। এর আগে জুন মাসে একটি শিশু হাসপাতালে এক মাসে প্রায় ৫০-৬০টি ইনফ্লুয়েঞ্জা এ/H1N1 এবং ঋতুভিত্তিক সর্দি-জ্বরের মতো সংক্রমণের রোগী চিকিৎসা নিয়েছিল।
দিল্লিতে গত বছরের তুলনায় H1N1 আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আট গুণ বেড়েছে। ২০ অগস্ট সেখানে ১৫৯টি নতুন influenza case-এর মধ্যে ১১৪টি ছিল H1N1। চলতি বছরে মোট আক্রান্ত ১,৭৭৭। চিকিৎসকদের মতে, বর্ষার তাপমাত্রার ওঠানামা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা রেসপিরেটরি ভাইরাস সংক্রমণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে কলকাতায় H1N1 বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হিসেবে আবহাওয়াকে দায়ী করার মতো তথ্য নেই।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা দিয়ে সোয়াইন ফ্লু শুরু হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তা নিউমোনিয়া বা গুরুতর রেসপিরেটরি কমপ্লিকেশন তৈরি করতে পারে। শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত রোগী, ডায়াবেটিস বা COPD-র মতো কোমর্বিডিটি থাকা ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা অক্সিজেন কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
কলকাতা কি দিল্লির পথেই হাঁটছে? তার উত্তর পেতে প্রয়োজন নিয়মিত তথ্য—কতজন ইনফ্লুয়েঞ্জা এ/বি পজিটিভ, তাঁদের মধ্যে কতজন H1N1 এবং কতজন হাসপাতালে ভর্তি। আতঙ্ক নয়, এখন প্রয়োজন সচেতনতা, দ্রুত শনাক্তকরণ ও নজরদারি।
