বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

জেলায় জেলায় অন্নপূর্ণা বিক্ষোভ ! প্রতিবাদে রেল অবরোধ, তৃণমূলকে দায়ী করছেন মন্ত্রী

21 August, 2026 7:09 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, আসানসোল, মালদহ- জায়গায়-জায়গায় বিক্ষোভ মহিলাদের।

‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ তিন হাজার টাকা না পেয়ে তুমুল বিক্ষোভ মহিলাদের। তাঁদের দাবি অ্যাকাউন্টে এখনও ঢোকেনি টাকা। এরপরই ক্ষোভ উগরে দিয়ে SDO অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ছোড়া হল ইট। বস্তুত, সাংবাদিক বৈঠক করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ টাকা ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে বলে জানানো হয় নবান্নের তরফে। তবে, বাদ পড়েন অনেক মহিলাও।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যোগ্যরা সকলেই টাকা পাবেন। আর যাঁরা টাকা পেলেন না, তাঁদের ফের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারপরও একাংশ মহিলারা টাকা না পেয়ে দেখালেন বিক্ষোভ। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বালুরঘাটে এসডিও অফিসে বিক্ষোভ ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ মহিলাদের একাংশ।

SDO অফিসের সামনের নাম প্লেটে ভেঙে দেওয়া হয়৷ এমনকি গেট লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন ক্ষুব্ধ মহিলারা। এসডিও অফিসের পর ডিএম অফিসের সামনেও বিক্ষোভ মহিলাদের। কোথাও সদুত্তর না পাওয়ায় বালুরঘাট ডিএম অফিসের সামনে রাস্তা অবরোধ করলেন তাঁরা।বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বালুরঘাট প্রশাসনিক ভবন চত্বরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বালুরঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

এদিকে রাস্তা অবরোধের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শহরের অন্যতম ব্যস্ততম রাস্তা৷ ক্ষুব্ধ মহিলাদের অভিযোগ,যাঁরা অযোগ্য তাঁরা মাসের পর মাস অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন। আবেদনকারীদের অভিযোগ, কারও স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারও স্বামী দিনমজুর, তারপরেও মিলেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বারবার অফিসে ঘুরে এবং আশ্বাস পেয়েও শেষমুহূর্তে আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়।

এক বিক্ষোভকারী মহিলা লিলি সরকার বলেন, “আমাদের বর IT কর্মী নয়। পরিবারের আয় ১২ লক্ষের কম। কেউ সরকারি চাকরি করেন না। তাহলে কেন বাদ দিল?” এদিকে, গতকাল রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং দাবি করেছিলেন,নিচুতলার কর্মীরা সরকারকে বদনামের জন্য এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তিনি বলেছিলেন, “নিচুতলার যাঁরা অফিসার রয়েছেন বিডিও এরা জেনেশুনে বদমাসি করছে। যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা পাওয়ার যোগ্য আছে তাঁদেরও হেনস্থা করছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে নজরদারি করছি। বারেবারে বলেছি এই ধরনের অন্যায় করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী যে কাজ করতে বলছেন সেইটাই করতে হবে।‌

অন্নপূর্ণা যোজনার বিক্ষোভের আঁচ সরাসরি পৌঁছে গেছে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছেও।‌ পুরসভা নিয়ে জেলাশাসক দফতরে বৈঠকের সময় একতলায় ঢুকে পড়েছিলেন বেশ কয়েক জন মহিলা। অভিযোগ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা পাচ্ছেন না। তাঁদের কথা শুনতে বৈঠক ছেড়়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে এসেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরে তিনি জানালেন, অন্নপূর্ণা নিয়ে গন্ডগোলের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল! বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানাবেন।

শুক্রবারও অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকা না-পেয়ে কলকাতা থেকে নানা জেলায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও বিডিও অফিস, কোথাও পুরসভায় গিয়ে বঞ্চনার অভিযোগ করছেন মহিলারা। এমনকি, রেলপথ অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবারই পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলাশাসক দফতরে ঢোকার সময় অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মহিলাদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা।

তাঁদের আশ্বাস এবং জবাব দিয়ে তিনি জেলাশাসক দফতরে ঢুকে যান। কিন্তু দুপুরে প্রশাসনিক বৈঠকের সময় ছন্দপতন। হইহই করে একদল মহিলা ঢুকে পড়েন জেলাশাসক দফতরের নীচতলায়। বৈঠক ছেড়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন অগ্নিমিত্রারা। বেশ খানিক ক্ষণ চলে কথাবার্তা।

বৈঠক শেষে অন্নপূর্ণা-বিক্ষোভ প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রার মত, অশান্তির নেপথ্যে কোথাও কোথাও পূর্বতন শাসকদলের হাত রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মা বোনেদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। ২ কোটি মহিলার যদি আবেদনপত্র পড়ে থাকে, সেগুলো আপলোড করতেও তো একটু সময় লাগবে। সেই সময়টা দিতে হবে।’’ মন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘বলতে খারাপ লাগছে, অনেক তৃণমূলের লোক ভিতরে বসে রয়েছে। অনেকে গন্ডগোল পাকাচ্ছে। আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকেও জানাচ্ছি।’’

এর আগে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি যে অভিযোগ করেছিলেন, সেই সুর শোনা গেল মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার গলাতেও। তিনি বলেন, ‘‘দেখে দেখে যাঁরা যোগ্য তাঁদের না দিয়ে (অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা) অযোগ্যদের দিচ্ছে। সেই কারণে যাঁরা যোগ্য, তাঁরা অকারণে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। এই বিষয়টা রাজনীতির অংশ। ধীরেসুস্থে সব ঠিক হয়ে যাবে।’’

তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ৬টি পুরসভা নিয়ে বৈঠক ছিল শুক্রবার। কী ভাবে মানুষকে আরও ভাল পরিষেবা দেওয়া যায় তা নিয়ে, পয়ঃপ্রণালী, আলো, রাস্তা, সাধারণ শৌচাগার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee