বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

শেষ সাম্বার মহাকাব্য: ১১ বছরের নির্বাসন ভেঙে রাজকীয় মঞ্চে নায়ক রোনালদিনহো

21 August, 2026 2:34 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : যুগ যুগ ধরে তো কতশত ফুটবলার জন্ম নিয়েছে, কিন্তু কবি? রোনালদিনহো তো স্রেফ ফুটবলার ছিলেন না, ছিলেন ফুটবল-ঈশ্বরের হাত ধরে নেমে আসা এক অবাধ্য কবি। ৪৬ ছুঁইছুঁই বয়সে, দীর্ঘ ১১ বছরের নির্বাসন ভেঙে সেই রূপকথার নায়ক আবার যুদ্ধক্ষেত্রে!

বুটজোড়া হয়তো ধুলো জমে গিয়েছিল, কিন্তু তাঁর পায়ের আঙুলে লুকিয়ে থাকা সেই চেনা পিয়ানোর সুর কি কখনো হারিয়ে যেতে পারে? ইতালির তৃতীয় ডিভিশনের ক্লাব রাভেন্নার জার্সিতে পেশাদার ফুটবলের রাজকীয় মঞ্চে ফিরছেন ব্রাজিলের এই অমর জাদুকর।

গত জুনে যখন প্রথম খবরটা রটেছিল, সমালোচকেরা শ্লেষের হাসি হেসেছিলেন। ভেবেছিলেন, দেউলিয়া হয়ে যাওয়া কোনো ক্লাবের সস্তা বিজ্ঞাপনী স্টান্ট। কিন্তু বিশ্বকে চমকে দিয়ে রাভেন্না সিলমোহর মেরেছে। নথিপত্রে রোনালদিনহো স্রেফ প্রচারের ক্যানভাস নন, রক্তমাংসের ফুটবলার। সোমবারের প্রথম ম্যাচে হয়তো নামছেন না, কিন্তু ইতালির সবুজ গালিচায় তাঁর পা পড়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

২০১৫-য় ফ্লুমিনেন্সের হয়ে শেষবার যখন বলের গায়ে জাদু ছিটিয়েছিলেন, ফুটবল দেবতাও কেঁদেছিল। ২০১৮-র বিদায়ঘণ্টা পেরিয়ে ১১ বছর পর এই দুঃসাহস কেন? কারণ, নায়কদের গল্প অসম্পূর্ণ থাকতে নেই। পেশাদার ক্যারিয়ারের ২৯৯টি গোল থমকে আছে তাঁর নামের পাশে। ৩০০তম গোলের সেই কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকটি স্পর্শ করতেই ফুটবল-ঈশ্বরের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন।

তবে এই ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার পেছনে আছে আরও গভীর এক চালচিত্র। রাভেন্নার মালিক ইগনাজিও চিপ্রিয়ানির সঙ্গে বন্ধুত্ব আর ক্লাবের মালিকানায় অংশীদার হওয়া—এক চালে সব মাত! এটা কোনো বিপণনের চমক নয়, রাভেন্না নামের এক অপরিচিত বিন্দুকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে জ্বলজ্বলে নক্ষত্র বানিয়ে দেওয়ার এক রাজকীয় মাস্টারস্ট্রোক।

২০০২ বিশ্বকাপের সেই দূরন্ত ফ্রি-কিক, ২০০৫-এর ব্যালন ডি’অর, কিংবা বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের উঠে দাঁড়িয়ে তালি বাজাতে বাধ্য করা—রোনালদিনহো একাই এক মহাকাব্য। ৪৬-এর শরীরে সেই বিদ্যুৎগতির স্প্রিন্ট থাকবে না ঠিকই, কিন্তু তাঁর এক চিলতে হাসিতে আর পায়ের এক ঝটকায় এখনো স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে পুরো স্টেডিয়াম। অলস সমালোচকরা বয়সের হিসেব কষুক, ফুটবল-প্রেমীরা প্রহর গুনছে সেই একটিমাত্র সোনালী মুহূর্তের—যখন শেষবারের মতো শেষ সাম্বা নাচবেন নায়ক, আর রাভেন্নার জালে আছড়ে পড়বে তাঁর ঐতিহাসিক ৩০০তম গোল!

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee