গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট

সংবাদদাতা, নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে সময় পেল ঋতব্রত-তৃণমূল। দলীয় পরিচয় ও প্রতীকের দাবিতে নিজেদের অবস্থানের দাবির সমর্থনে নথি এবং হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে আরও ১০দিন সময় দেওয়া হল। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ঋতব্রত শিবির হলফনামা পেশের ১০ দিন পরে পাল্টা হলফনামা দিতে পারবে মমতা-তৃণমূলও। তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক বিবাদে সোমবারই ছিল ছিল হলফনামা দেওয়ার শেষ দিন। শুনানির সময় নিজেদের হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতের কাছে আরও ২ সপ্তাহ সময়ের আর্জি জানায় ঋতব্রত-তৃণমূল। এই বিষয়ে তাদের যুক্তি ছিল, দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার পাওয়া যায়নি। ফলে নথি জমা দিতে সময় দেওয়া হোক। কিন্তু সেই আবেদনের বিরোধীতা করা হয় মমতা পন্থী তৃণমূলের পক্ষ থেকে। মমতা-তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঋত শিবিরকে যদি অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়, তাহলে তাঁদেরও পাল্টা বক্তব্য পেশ করার জন্য সময় দিতে হবে। দু’ পক্ষের সওয়াল শোনার পর ঋতব্রত গোষ্ঠীকে নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেয় সুপ্রিম কোর্ট । পাশাপাশি মমতা তৃণমূলের উদ্দেশে জানানো হয়, ঋতব্রত গোষ্ঠী হলফনামা জমা দেওয়ার পরের ১০ দিনের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দিতে পারবে তারাও। অর্থাৎ সব মিলিয়ে দু’পক্ষকেই ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট।
এদিকে এদিন সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের দিকে বড়সড় অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রতীক নিয়ে শুনানির আগে, মমতা তৃণমূল কংগ্রেস তাদের নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে। নিজের এক্স হ্যান্ডলে ঋতব্রত দাবি করেন, রবিবার রাতে চার্টার্ড ফ্লাইটে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছে তৃণমূলের মমতা শিবির। কিন্তু তার আগে শনিবারই সড়কপথে তাদের নথিপত্র নিয়ে কর্মীরা রওনা দিয়েছিলেন। মাঝপথে সেই নথিপত্র ছিনতাই করার চেষ্টা হয়। কিন্তু কর্মীরা সেই চেষ্টা রুখে দেন। ঋতব্রত লিখেছেন, ‘চার্টার্ড সংস্কৃতি ও তৃণমূল স্তরের মধ্যে একটা ছোটখাটো যুদ্ধ হয়ে গেল। সবসময় গায়ের জোরে সবকিছু লুটের চেষ্টা সফল হয় না।’
ঋতব্রত এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। অভিযোগের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন মমতা-পন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বলেছেন, ‘কেউ বিশ্বাস করবে? সব গল্প। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজেপি করছিল, পুলিশ দিয়ে জোর করে যতজন বিধায়কের সই হয়েছিল, ততজন বিধায়করা তো এবার সই-ও করেনি। সদস্য-সমর্থক বলে ফর্ম ফিলআপ করানো হয়েছে, থানা-পুলিশ করে ওইসব করানো হয়েছে। তাতেও ওদের বিরাট ঘাটতি। এতদিন পুলিশ দিয়ে রোয়াবি করেছে, এখন পুলিশ পারছে না বলে কাঁদুনি গাইতে এসেছে। হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে। অপদার্থ, বিশ্বাসযোগ্যতাহীন।’
